স্বৈরশাসন আমলে রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে লুট হয়েছে ৬০২ কোটি টাকা। গণঅভ্যুত্থানের পরে স্কুলের অনেক নথিপত্র গায়েবও করা হয়। যার বেশিরভাগের সাথে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতা কামাল মজুমদার। অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হয় ৬৬২ জন শিক্ষককে। এর মধ্যে ৭৪ জনের কোন নিবন্ধন নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে ২৯ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। এই বিদ্যালয়ে ২০০৯ সাল থেকে সভাপতি হিসেবে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা কামাল আহমেদ মজুমদার ও তার পরিবারের সদস্যরা।
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম জানান, স্বৈরশাসনের সাড়ে ১৫ বছরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এই স্কুলে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন কামাল মজুমদার। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী আটটি বহুতল ভবন নির্মাণ ও উন্নয়ন খাতে ৪৩৬ কোটি, একাডেমিক ও নগর ভাতায় ৮৭ কোটি ৮৪ লাখ, ভ্যাট-আয়কর ফাঁকিতে ৩৬ কোটি ৭৫ লাখ এবং মুদ্রণ-ছাপানোর নামে ১১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৬ বছরে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হয় ৬৬২ শিক্ষক-কর্মচারীকে, যা মোট শিক্ষকের তিন-চতুর্থাংশ। এমনকি ৭৪ জনের নেই শিক্ষক নিবন্ধন সনদ। এসব নিয়োগে ছিল না কোনো বিজ্ঞপ্তি।
অভিভাবক ঐক্য ফোরাম সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘এরকম দুর্নীতির ফলে প্রতিষ্ঠানের সুনামই শুধু ক্ষুণ্ন হয় না, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানও নষ্ট হয়।’
মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটিই মানা হবে।’
এই স্কুলের ৫ টি শাখা রয়েছে, যার চারটিরই কোন অনুমোদন নাই।