আগামী মাসে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান তিনি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আসিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী জুলাই মাসে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু করবে সরকার। এছাড়া সরকার সারাদেশে মিডডে মিল চালু করা ও পাঠদানকে আধুনিক করতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনে কাজ করছে।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শারীরিক-মানসিক বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমের (এক্সট্রা কারিকুলাম) দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
এসময় মন্ত্রী বলেন, ‘সেশনজট কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সামনে পরীক্ষার ফলাফল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষার্থীরা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে। এই ডিসেম্বরে স্কুলগুলোতে নতুন পরিমার্জিত ও সংশোধিত নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়তে হবে। এজন্য শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।’
প্রতিযোগিতার শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী। এসময় শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম,অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আতিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬ 'প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজন করে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ, কাবিং ও বিতর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
স্কুল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এ প্রতিযোগিতায় প্রায় ২ কোটি ১৮ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এক শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়েও অংশ নিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে আসা ৪০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। শিশুদের দক্ষ ও মানবিক করে গড়তে এ প্রতিযোগিতা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।