ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে চালু হচ্ছে তৃতীয় ভাষা: মাহদী আমিন

বাংলা ও ইংরেজির বাইরে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা একটি মূল্যবোধ-ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে চাই। যেখানে আমরা নতুন নতুন বিষয় চালু করব। উদাহরণস্বরূপ, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সব ছাত্রছাত্রীর জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। আমরা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে একটি তৃতীয় ভাষা চালু করতে যাচ্ছি। সব ছাত্রছাত্রীর জন্য এটি চালু হতে কিছুটা সময় লাগবে, তবে সেই প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে সব ছাত্রছাত্রীর জন্য আরও দুটি বিষয় বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছি। একটি হলো সংস্কৃতি এবং অন্যটি খেলাধুলা। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাটি এমন একটি আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যাবে, যাকে আমরা বলি লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা চাই এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা, যেখানে ছাত্রছাত্রীদের শিখতে বাধ্য করা হবে না, বরং তারা একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশে কাজ করবে। যেখানে ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে সর্বোত্তম সম্পর্ক থাকবে এবং তারা তাদের নিজস্ব প্রতিভা দিয়ে চেষ্টা করবে। সুতরাং, এগুলো আমাদের কিছু আদর্শ ও নীতি। আমরা যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাব, তখন এই নীতিগুলো বাস্তবায়ন করতে এবং এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আমাদের সব অংশীজনের আরও সহযোগিতার প্রয়োজন।’

এ সময় নতুন সরকারের জন্য ৪৮ মিলিয়ন বরাদ্দের ঘোষণায় ইউনেস্কোসহ দাতা সংস্থাগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব প্রোগ্রাম, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মতো বিষয়গুলোকে আমরা অগ্রাধিকার দিতে চাই। সেজন্যই আমরা সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একই ইউনিফর্ম, একই স্কুল ব্যাগ, একই জুতা চালু করছি এবং সেই সাথে মিড ডে মিল প্রকল্পও চালু করছি। এটি এখন জাতীয় পর্যায়ে রয়েছে এবং আমরা এ বিষয়ে কিছু মতামত পাচ্ছি; আমাদের কাজের পদ্ধতি নতুন করে সাজাতে হবে।’

শিক্ষকদের নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পাঠদানের জন্য শিক্ষকরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমাদের বৃহত্তর পরিমণ্ডলের দিকেও নজর দেওয়া উচিত। আর এই বৃহত্তর পরিমণ্ডল বলতে বোঝায় পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষণ পদ্ধতি, প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ, বৈষম্য হ্রাস করা এবং এই সবকিছুকে আমরা একটি ৩৬০ ডিগ্রি এঙ্গেল থেকে দেখি। সুতরাং, শিক্ষকরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। প্রধানমন্ত্রী যেমনটি বলেছেন, আমাদের শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আমাদের তাঁদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাঁদের আরও পরিশীলিত করে গড়ে তুলতে হবে এবং তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে বৈশ্বিক সেরা প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে সমন্বয়ও নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সুতরাং, আমরা বুঝি আমাদের বর্তমান এই বৃহৎ ব্যবস্থা এবং মাল্টিপ্লাই গ্র্যান্ট শিক্ষকদের সক্ষমতা উন্নয়নের উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়। যা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির সাথেও শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশ্বাস করি, সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে আমরা একসাথে কাজ করব এটা নিশ্চিত করতে যে, একদিকে এই অনুদান শিক্ষকদের সর্বোত্তম সক্ষমতা ব্যবহারে সহায়তা করবে এবং অন্যদিকে সব প্রধান অংশীজনের ক্রমবর্ধমান সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারের কর্মসূচিও এগিয়ে যাবে।’