পদার্থবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রশ্নে ভুল রেখে লাখো এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ছেলেখেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক একাউন্টে ডাকসু জিএস প্রশ্ন রাখেন, ‘এমন ছেলেখেলা কীভাবে মেনে নেওয়া যায়?’
ফেসবুক পোস্টে এস এম ফরহাদ বলেন, শিক্ষার্থীরা কি ক্ষুব্ধ না হয়ে চুপচাপ সব মেনে নেবে? এইচএসসি পরীক্ষায় ৫–১০ নম্বরই একজন শিক্ষার্থীর মেডিকেল, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা স্বপ্নের অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ভাগ্য বদলে দিতে পারে। সেখানে পদার্থবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্নে ভুল রেখে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন ছেলেখেলা কীভাবে মেনে নেওয়া যায়?
এস এম ফরহাদ আরও বলেন, সবচেয়ে দুঃখজনক হলো , জটিল এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে একটি সুস্পষ্ট ও দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু তিনি বিষয়টি স্পষ্টভাবে সমাধানের পথে না গিয়ে নিজের বাহাদুরি দেখালেন। এমনকি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির জন্য একবার দুঃখপ্রকাশ করাও প্রয়োজন মনে করেননি।
এ বিষয়ে ডাকসু জিএস বলেন, প্রশ্নপত্রে দুটি প্রশ্নে ভুল হয়েছে। সেই দায় নিজের পরিবর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ প্রশ্ন চূড়ান্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাধিক ধাপে তা যাচাই করার কথা। বাস্তবতা হলো, বর্তমান মন্ত্রীর দায়িত্বকালেই এই পরীক্ষার চূড়ান্ত পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সকল ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এখন আবার চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে ওই দুটি প্রশ্নে সবাইকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সেটিও টানা এক দিন ফাটাকেস্টগিরি দেখিয়ে তারপর জানানো হয়েছে।
ফরহাদ আরও বলেন, পুরো বিষয়টি দেখে মনে হচ্ছে, "আগে পানি ঘোলা করা; তারপর সে পানি পান করা" এ ধরনের আহাম্মকি বিএনপির জন্য নতুন নাহ। অতীতেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে, আর সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই সনদ ও গণভোটের বিষয়েও এমন প্রবণতা ছিল।
শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে এস এম ফরহাদ বলেন, এই সমস্যার গ্রহণযোগ্য ও দ্রুত সমাধান করুন।