বাংলাদেশের খুদে গণিত বিস্ময় ৯ বছরের আব্দুল্লাহ আল আমিন

মাত্র ৯ বছর ৯ মাস বয়সেই অসাধারণ গাণিতিক প্রতিভা দিয়ে সবার নজর কেড়েছে আব্দুল্লাহ আল আমিন। দারিদ্র্য ও অপুষ্টির মধ্যে বেড়ে ওঠা এই শিশুটি তার ব্যতিক্রমী মেধার জন্য অনেকের কাছ থেকেই ‘গণিত বিস্ময়’ উপাধি পেয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষকমণ্ডলী এবং বাংলাদেশ গণিত সমিতির কর্মকর্তারা তার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে সে অত্যন্ত সহজে উচ্চতর গণিত ও বিজ্ঞানের জটিল সমস্যার সমাধান করে দর্শকদের বিস্মিত করেছে।

গাণিতিক সাফল্যের পাশাপাশি আব্দুল্লাহ স্বাধীনভাবে কেমব্রিজ ও লেভেল এবং এ লেভেল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে সে ও লেভেলের অ্যাডিশনাল ম্যাথমেটিক্স, ম্যাথমেটিক্স ডি, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি এবং ফারদার ম্যাথমেটিক্স এবং এ লেভেলের ম্যাথমেটিক্স (৯৭০৯), ফারদার ম্যাথমেটিক্স (৯২৩১) ও ফিজিক্স (৯৭০২) বিষয়ে পড়াশোনা করছে। এত অল্প বয়সেও সে ডিসক্রিট ম্যাথমেটিক্স থেকে শুরু করে ক্যালকুলাস পর্যন্ত জটিল সমস্যাগুলো অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করতে পারে। উচ্চতর পদার্থবিজ্ঞানের প্রতিও তার অসাধারণ আগ্রহ রয়েছে, যা শিক্ষক ও পর্যবেক্ষকদের আরও মুগ্ধ করেছে।

আব্দুল্লাহ ঢাকার মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকায় বসবাস করে। তার বাবা আবু হেনা মোস্তফা সাদেক বর্তমানে বেকার এবং তার মা সালমা আক্তার মনিকা একজন গৃহিণী। চরম আর্থিক কষ্টের মধ্যেও আব্দুল্লাহ ছোটবেলা থেকেই প্রায় সম্পূর্ণভাবে নিজে নিজে শিখে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যয়বহুল শিক্ষা উপকরণের উপর নির্ভর না করে সে মূলত ইন্টারনেট, বিনামূল্যের অনলাইন কোর্স এবং উন্মুক্তভাবে পাওয়া যায় এমন নিবন্ধ পড়ে শিখেছে। তার অসাধারণ সম্ভাবনা বুঝতে পেরে তার পরিবার তাকে নিরন্তর উৎসাহ ও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ গণিত সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আব্দুল্লাহর ব্যতিক্রমী গাণিতিক প্রতিভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। চিঠিতে অগ্রণী ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, বিকাশ, নগদ এবং রকেটসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট অনুদান অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তার শিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদনও জানানো হয়।

আব্দুল্লাহর মা সালমা আক্তার বলেন, সীমিত আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের ছেলেকে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। আমাদের স্বপ্ন, একদিন আমাদের ছেলে দেশ ও জাতির জন্য সম্মান বয়ে আনবে।’

তার বাবার জানান, আব্দুল্লাহর ব্যতিক্রমী প্রতিভা প্রথম প্রকাশ পায় যখন তার বয়স মাত্র ছয় বছর। সে অনেক উঁচু ক্লাসের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বই দ্রুত পড়ে শেষ করে ফেলত। পরবর্তীকালে অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ গণিত সমিতির অন্যান্য কর্মকর্তা তার সাক্ষাৎকার নেন। সেই সেশনে আব্দুল্লাহ সবার সামনে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গণিতের সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করে সবাইকে অবাক করে দেয়।

অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলামের চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, উপযুক্ত সুযোগ ও সহায়তা পেলে এই অসাধারণ খুদে প্রতিভা তার জ্ঞান ও দক্ষতার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়ে অসামান্য সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে। 

এতে আরও বলা হয়, তার প্রতিভার সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে তা শুধু আব্দুল্লাহর জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও গর্ব বয়ে আনবে।