আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস

শিক্ষকদের মানোন্নয়ন ও মর্যাদা নিশ্চিতের তাগিদ বিশ্লেষকদের

 

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষকের আক্ষেপ, শিক্ষকতায় এখন আর সেই মর্যাদা নেই। এ উপলব্ধি শিক্ষার্থীদেরও। তাদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট কাটাতে হলে প্রয়োজন শিক্ষকদের মানোন্নয়ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক উন্নয়নে শিক্ষককে তার অবদান রাখার সুযোগ করে দিতে হবে।  

সরকারি বিজ্ঞান কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সালমা খানম। ভালোবেসেই এসেছেন এই পেশায়। শিক্ষার্থীদের পাঠদান আর তাদের ভবিষ্যৎ গড়াতেই মনোযোগ তাঁর।  

সালমা খানম বলেন, ‘আমি আমার সন্তানদের যাতে একটা ভালো শিক্ষা দিতে পারি, পাশাপাশি আমার পেশার ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদেরকেও আমি আমার সন্তানদের মতো করে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করি।’

কিন্তু শিক্ষকদের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব যেন মেলে না। নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক, রয়েছে বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণ ও অধিকারসহ নানা সংকট। তারওপর নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও অনিয়মে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে শিক্ষকতা পেশা।  

আরেক শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষকেরা সময়মতো পদোন্নতি পাচ্ছেন না। পদগুলো ফাঁকা পড়ে আছে অথচ সরকারের সেদিকে খেয়াল নেই।’

আরেকজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের দেশে অন্যান্য দেশের তুলনায় খুব পিছিয়ে আছে।’

একটা সময় ছিলো, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ছিলো শ্রদ্ধার, আস্থা ও বিশ্বাসের। এখন যেন সেটাও হারাতে বসেছে।  

এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিক্ষক দিবসকে আমরা শুধুমাত্র একদিনে পালন করতে চাই না। বরং তাদের সম্মান এবং শ্রদ্ধা দিয়ে প্রত্যেকদিন আমরা এই শিক্ষক দিবস পালন করতে চাই।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষকের মর্যাদা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। 

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় শিক্ষকেরা যেভাবে লাঞ্চিত, বঞ্চিত এবং বঞ্চনার শিকার হয়েছে সেটি আমরা আর দেখদে চাই না। তার কিছু ধারাবাহিকতা জুলাই আন্দোলনের পরে মবের কারণে হয়েছে। যে দোষী তার অবশ্যই বিচারিক প্রক্রিয়ায় শাস্তি হবে। কিন্তু একজন শিক্ষককে লাঞ্চিত করা, এটি কোনোভাবে কাম্য না।’