ইসরায়েলে আটকা পড়েছিলেন বেসমেন্টে, আতঙ্কের সেই ৩৬ ঘণ্টা কেমন ছিল নুশরাতের?

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইসরায়েলে আটকা পড়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী নুশরাত ভারুচা। তারপর রোববার (৮ অক্টোবর) ভারত সরকারের সহায়তায় দেশে ফেরেন তিনি। বিমানবন্দরে নেমেই তাঁর চোখে কান্না, সকলের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে নেন অভিনেত্রী। কারণ সেই সময় আটকা পড়া অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। তবে দু’দিন কাটতেই ইসরায়েলে কাটানো আতঙ্কের সেই ৩৬ ঘণ্টা কেমন ছিল, জানালেন অভিনেত্রী।

৩ অক্টোবর হাইফা চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের ছবি ‘অকেলি’র জন্য গিয়েছিলেন নুশরাত। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছবিটির দুই ইসরায়েলি অভিনেতা। পৌঁছানোর পর প্রায় দু’দিন সেখানকার নানা ঐতিহাসিক জায়গা ঘুরে দেখেন তিনি। শুক্রবার (৬ অক্টোবর) রাতে সিনেমার কলাকুশলীদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন। পরদিন সকালে অভিনেত্রীর ঘুম ভাঙে বোমার আওয়াজে।

কোনও উপায় না পেয়ে নুশরাত তখন আশ্রয় নিয়েছিলেন বেসমেন্টে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে কেটেছে তাঁর। এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অভিনেত্রী বলেন, ‘আগের দিন রাতেই আমরা সকলে যে আনন্দ করেছিলাম, শনিবার সকালে সব যেন ধুয়েমুছে গেল। খালি ঘন ঘন বোমা ও সাইরেনের আওয়াজ। অনেক পরে বুঝলাম যুদ্ধ লেগেছে। ভীষণ বিচলিত হয়ে পড়ি। আগে একটা আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলাম। হোটেলের নীচে বেসমেন্ট অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করছি আমরা। আসলে এমন একটা ঘটনার জন্য কখনোই প্রস্তুত ছিলাম না।’
সুরক্ষিতভাবে দেশে ফিরতে পেরে অভিনেত্রী কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ভারত সরকারকে। শেষে তিনি যোগ করেন, ‘ওই ৩৬ ঘণ্টা আমার সারা জীবন মনে থেকে যাবে। এটা আমার জীবনের এমন এক অভিজ্ঞতা যা কখনোই ভুলতে পারব না।’

প্রসঙ্গত, ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন দ্বন্দ্ব গড়িয়ছে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। শনিবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ইসরায়েল সরকার ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি’ ঘোষণার পরেই গাজা ভূখণ্ডের প্যালেস্তানীয় সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাসের একাধিক ঠিকানায় শুরু হয়েছে বিমান হামলা। জবাব দিয়েছে হামাসও। গাজার সীমানা পেরিয়ে কয়েকশ’ প্যালেস্তেনীয় যোদ্ধা ঢুকে পড়ে ইসরায়েল সীমান্তের ভিতর। আহত প্রায় হাজারেরও বেশি।