১৯৯৮ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’। এখনও সব বয়সীর কাছে এই ছবির আবেদন প্রায় অমলিন। করণ জোহর পরিচালনায় এতে নায়ক ছিলেন শাহরুখ খান। নায়িকার চরিত্রে ছিলেন বলিউডের দুই বাঙালি অভিনেত্রী রানি মুখার্জি ও কাজল। পারবারিকভাবে একই পরিবারের সদস্য তাঁরা। সম্পর্কে কাজিন। তবে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’র শুটিং সেটে নাকি তা দেখে বোঝাই যেত না! একে অপরের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেই চলতেন দু’জনে!
রানি-কাজলের এই দূরত্ব নিয়ে বহুদিন ধরেই আলাপ-আলোচনা। এবার এ প্রসঙ্গই উঠে এলো ‘কফি উইথ করণ’-এর অষ্টম সিজনেরে সাম্প্রতিক পর্বে। এতে অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন রানি ও কাজল। যেখানে এই দুই নায়িকার সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন করণ। তাঁর ভাষ্য, ‘পরিচালক হিসেবে এটি আমার প্রথম ছবি। আমি জানি যে তোমরা একই পরিবারের, তোমরা তুতো বোন। এদিকে সেটে তোমাদের হাবভাব দেখে তা বোঝার উপায় নেই। এই দূরত্বটা ঠিক কেন?’
করণের এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কাজল বললেন, ‘বিষয়টা এমন নয় যে আমাদের মধ্যে দূরত্ব ছিল। আমরা সচেতনভাবে কোনও দূরত্ব তৈরি করিনি। আমার মনে হয়, ওই বয়সে যখন আমরা অভিনয়ে পা রেখেছি... আমরা নিজেদের জায়গা তৈরি করা নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম।’
কাজলের কথার রেশ ধরে রানি বললেন, ‘আমরা ছোট থেকে একে অপরকে চিনি। আমি চিরকাল কাজল দিদি বলেই ডেকে এসেছি। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এমনিই দূরত্ব বাড়তে থাকে। কারণ তখন দেখা-সাক্ষাৎ অনেক কমে যায়। আমার বরং তানিশার (কাজলের বোন) সঙ্গে অনেক বেশি কথাবার্তা হতো। আর এমনিতেও আমাদের পরিবারের ছেলেদের সঙ্গে কাজল দিদির বন্ধুত্ব বেশি ছিল।’
তাহলে পরে কীভাবে একে অপরের ভালো বন্ধু হয়ে উঠলেন রানি ও কাজল? এই প্রশ্নের জবাবে রানি বললেন, ‘আমাদের বাবারা চলে যাওয়ার পরে পরিবারের সবার মধ্যেই দূরত্ব অনেক কমে গিয়েছিল। যা হয় আর কী... প্রিয়জনকে হারালে মানুষ কাছের লোককেই আঁকড়ে ধরে।’