ভিএফএক্সের বাড়বাড়ন্ত আর দক্ষিণী ছবির ভিড়ে টেলিভিশনের পর্দায় যখন নব্বই দশকের কোনো আলোচিত চলচ্চিত্র ফিরে আসে, তখন সেই সময়ের সিনেপ্রেমীদের মনে ভর করে এক নস্টালজিয়া! ফেলে আসা সোনালী এক যুগ। নির্মাতা সুভাষ ঘাইয়ের ‘তাল’ তেমনই এক ব্লকবাস্টার। ১৯৯৯ সালে সিনেমাটি মুক্তির পর অক্ষয় খান্না, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও অনিল কাপুরের রসায়ন দর্শকমহলে ঝড় তোলে। সম্প্রতি সামাজিকমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সুভাষ ঘাইয়ের একটি প্রশ্নই সিনেমাটির সিক্যুয়েল নির্মাণের জল্পনা উসকে দিয়েছে! তবে কি দীর্ঘ ২৭ বছর পর তৈরি হচ্ছে ‘তাল ২’?
৮১ বছর বয়সী এই নির্মাতার ভাষ্য, ‘আমি যে পোস্টটি শেয়ার করেছি তা একটা প্রশ্ন মাত্র! এর উত্তর দর্শকরাই দেবেন। গত ১৫ বছর ধরে আমি একটা প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি, আপনি আবার কবে তাল বানাবেন? সেই তালের এনার্জি এতই শক্তিশালী যে জেন-জিরাও আমাকে তালের দ্বিতীয়ভাগ বানানোর অনুরোধ করছে। কিন্তু বিষয়টা যতটা সহজ মনে হচ্ছে বাস্তবে ততটাই কঠিন। আমরা চিত্রনাট্য প্রায় সম্পূর্ণ করে ফেলেছি। এখন মনে হচ্ছে এটা হয়তো সঠিক সময় নয়।’
যোগ করে তিনি বলেন, ‘যখন তাল তৈরি হয়েছিল, তখন অক্ষয় খান্না আর ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন দুজনেই ইন্ডাস্ট্রিতে সদ্য পা রেখেছিলেন। সেই কারণেই পর্দায় তাঁদের প্রেমের গল্পের বুনোট দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করেছিল। একইরকমভাবে অনিল কাপুর তখন একজন অভিজ্ঞ অভিনেতা। তার চরিত্রটিকেও সেইভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছিল। একটা ভালো চিত্রনাট্য লেখার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো সঠিক কাস্টিং। আমার যে ছবিগুলো বক্স অফিসে খারাপ ব্যবসা করেছিল তার প্রধান কারণ ছিল ভুল কাস্টিং।’
যদিও সিক্যুয়েল ছবির কাস্ট নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি সুভাষ ঘাই, তবে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ‘সাইয়ারা’র সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে আহান পান্ডে ও অনীত পড্ডার প্রশংসা করেছেন তিনি। ফলে এই প্রজেক্টে তাঁদের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এক আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন নির্মাতা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—কোনো ভিলেন, যৌনতা বা সহিংসতা ছাড়াই যে বিশুদ্ধ প্রেমের গল্প তিনি তাল-এ বলেছিলেন, তা কি আজকের জেন-জি কিংবা জেনারেশন আলফা পছন্দ করবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই এবার তিনি তাল-২ নির্মাণের পথে পা বাড়াচ্ছেন।