সঞ্জয় লীলার শুটিং সেটে মৃত্যু, বিপাকে নির্মাতা

বিতর্কের মুখে পড়েছেন বলিউডের আলোচিত নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালি।  সম্প্রতি তার পরিচালিত আসন্ন সিনেমা ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর শুটিং চলাকালে এক শুটিং ক্রুর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে। 

জানা গেছে, মুম্বাইয়ের গোরগাঁওয়ের রয়্যাল পাম্প স্টুডিওতে শুটিং চলাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান কাঠমিস্ত্রি চন্দ্রধারী যাদব। তিনি সিনেমাটির সেট নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন।

ঘটনার পর বানসালির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নিহতের পরিবারকে ৪০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নয় চলচ্চিত্রকর্মীদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এপ্লইজ।

সংগঠন দুটি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনাভিসের কাছে চিঠি দিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়িদের বিরুদ্ধে এফআইআর এবং নিহতের পরিবারকে ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এদিকে সিনেমার সেটে কর্মীর মৃত্যু কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয় গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রণবীর কাপুর, ভিকি কৌশল এবং আলিয়া ভাটের মতো অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে তৈরি হওয়া একটি সিনেমায় যেখানে বড় মাপের প্রযোজনা সংস্থা রয়েছে সেখানে নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করা হয়নি, যার ফলে একজন কর্মীর দুর্ভাগ্যবশত মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের।

অতীতের ঘটনা স্মরণ করে এই অ্যাসোসিয়েশনের এক চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘এই ঘটনাটি নতুন কোন ঘটনা নয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০০০ সালে দেবদাস ছবির শুটিং এর সময় কর্মী দিনদয়াল যাদব প্রাণ হারান, আরো বেশ কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হন। ২০০১ সালে ওই ছবির শুটিং চলাকালীন মারা যান কর্মী সুভাষ মোরক। এছাড়াও ‘পদ্মাবত’ ছবির শুটিং চলাকালীন ৩৪ বছর বয়সী ডাকিয়া দুর্ঘটনায় মারা যান। এবার আরো একবার তেমনই দুর্ঘটনা ঘটল।’