যৌন নিগ্রহ রিপোর্ট: পদত্যাগের পর মুখ খুললেন মোহনলাল

সরকারি হেমা কমিটির রিপোর্ট উলটপালট করে দিয়েছে দক্ষিণ ভারত। কেরল সরকার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে মালায়ালি সিনেজগত। ইতিমধ্যে অভিনয়শিল্পী সংগঠন  ‘অ্যাসোসিয়েশন অব মালায়ালম মুভি আর্টিস্টস’ (এএমএমএ)-র সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন দক্ষিণ সুপারস্টার মোহনলাল।

কারণ অভিনেতা সিদ্দিকী, পরিচালক রঞ্জিত বালকৃষ্ণন-সহ একাধিক খ্যাতনামা তারকার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। চাপের মুখে পরে গত মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন মোহনলাল। ‘দৃশ্যম’ অভিনেতা অবশেষে আজ (৩১ আগস্ট) মুখ খুললেন।

তিনি বলেন, ‘যদি কোনও অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রমাণ থাকে তবে অবশ্যই তাঁদের শাস্তি পাওয়া উচিত। অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকলে তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।’

তাঁর মতে, যে মালয়ালাম সিনেমা একটি বিশাল শিল্প; যেখানে হাজার হাজার লোক কাজ করে এবং শিল্পী সংগঠন এএমএমএ মহিলাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারেনি। 

মোহনলাল বিচারপতি হেমা কমিটির রিপোর্ট প্রকাশের কেরালা সরকারের সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করেছেন। অভিনেতা আরও বলেন, ‘হেমা কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করা সরকারের একটি ভালো সিদ্ধান্ত ছিল।’

মোহনলাল জোর দিয়েছিলেন যে তিনি মালয়ালাম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ‘কোনও শক্তি গোষ্ঠীর’ অংশ নন বা এ জাতীয় কোনও গোষ্ঠীর অস্তিত্ব সম্পর্কেও তাঁর জানা নেই। অভিনেত্রীরা ইন্ডাস্ট্রির সুপরিচিত ব্যক্তিত্বদের হাতে নির্যাতিত-শোষিত হওয়ার ঘটনা রিপোর্টে তুলে ধরা হয়। পাঁচ বছর ধরে ধামাচাপা পড়ে থাকা এই রিপোর্টে মালয়ালাম সিনেমায় মহিলাদের ক্রমাগত যৌন হেনস্থার বিষয়টি উন্মোচিত হয়েছে, যার ফলে জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ সঞ্চারিত হয়েছে। 

জানা যায়, এরপর থেকে মোহনলাল এবং এএমএমএ-এর অন্যান্য নেতারা অভিযোগের নৈতিক দায় স্বীকার করে গণহারে পদত্যাগ করেছেন।

বিশেষজ্ঞ প্যানেলের রিপোর্ট প্রকাশের পর এই প্রথম সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন মোহনলাল। 

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস