ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন এবং সোনম ওয়াংচুকের অনশন ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সোমবার (২০ জুলাই) ককরোচ পার্টির ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে আহত হন অনেকে। এবার এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ।
বুধবার (২১ জুলাই) নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেন তিনি। যেখানে ক্যামেরার সামনে তাঁকে সরাসরি কথা বলতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারের আচরণে রীতিমতো ক্ষুব্ধ এ অভিনেতা। দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকেও আঙুল তুলেন।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া নির্মম দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের দুটি কথা বলতে চাই। প্রথমত, কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি যদি এই দেশ পরিচালনা করেন, তবে তার মন চাইবে পুরো দেশটাই তার মতো অজ্ঞ, অবুঝ ও দয়াহীন হয়ে উঠুক। আমি ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) এবং এফটিআইআই থেকে অভিনয়ের ওপর দুটি ভিন্ন কোর্স শেষ করলেও, অভিনয় সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি শিখেছি সেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই, যাদের আমি শেখানোর চেষ্টা করেছি। আমার পুরো সহানুভূতি তাদের সঙ্গেই আছে।’
এমন এক উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই অভিনেতার এই ভিডিও বার্তা এলো, যখন মুম্বাই ও কলকাতার মতো শহরেও তার প্রভাব পরিলক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি রাজধানী দিল্লিতে পরিস্থিতি থমথমে ও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে আমার মনটা দুঃখে বিদীর্ণ হয়ে আছে। আমি রাগে ফুঁসছি। সেই রাগ নিয়েই বলছি—যেভাবে মুখ ঢেকে এবং হাতে লাঠি নিয়ে কিছু গুন্ডা (যারা কিনা আমাকে আমেরিকার ‘আইস’ এজেন্টদের কথা মনে করিয়ে দেয়) এই সন্তানদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে, তা দেখে আমি চুপ থাকতে পারছি না। একবার নিজের সন্তানের কথা ভাবুন, আর এটাও ভাবুন যে একদিন আপনারাও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন।’’
যোগ করে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, ‘আমি এই বাচ্চাদের বলতে চাই যে, আশা হারাবে না। বহু মানুষ তোমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। বহু মানুষ তোমাদের পাশে আছেন। লড়াই চালিয়ে যাও। আমাদের তরুণ সমাজের ওপর আমার সবসময়ই আশা ছিল, আর এখন সেই আশা আরও মজবুত হয়েছে। লড়াই চালিয়ে যাও। আমরা সবাই তোমাদের সাথে আছি। আর দেশের সরকারকে শুধু এটুকুই বলতে চাই যে, আমি চাই আপনারা যেন এই সবকিছু মনে রাখেন।’
গত ১৮ জুলাই ভোরে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২১ দিনের অনশন ধর্মঘট পালনের পর সোনম ওয়াংচুককে দিল্লি পুলিশ জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার পর আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নেয়। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং চিকিৎসকের পরামর্শের কথা উল্লেখ করে এই মানবাধিকার কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি কর হয়। ভারতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নানা অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশনে বসেছিলেন তিনি।
‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের পর পরিস্থিতি আরও চরম সীমায় পৌঁছায়। গত ২০ জুলাই এসব কেলেঙ্কারিতে আন্দোলনের ডাক দেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ, ফলে বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সহিংসতা তীব্র আকার ধারণ করে। এদিকে, শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সোনম ওয়াংচুকের অনশন ২৪তম দিনে পা দিয়েছে। দিল্লি পুলিশের নির্মম দমন-পীড়নের পরও তিনি অনশন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।


‘ককরোচ পার্টি’কে সমর্থন করে গ্রেপ্তার স্বরার স্বামী ফাহাদ, ক্ষুব্ধ বলিউড
