মাত্র ৩৭ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ভারতের জনপ্রিয় গায়ক হারমান সিধু। পিএনসি নিউজ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় মানসা থেকে নিজের গ্রাম খিয়ালা ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তথ্য অনুযায়ী, মানসা–পটিয়ালা রোডে খিয়ালা গ্রামের কাছে তাঁর গাড়ি একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের প্রভাব এতটাই ভয়াবহ ছিল গাড়িটি পুরো চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়, পিষে যায় এবং ঘটনাস্থলেই হারমান সিধুর মৃত্যু হয়। ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ মানসা সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যদেরও খবর দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই হারমান সিধু ইনস্টাগ্রামে মেয়ের সঙ্গে কাটানো এক স্নেহময় একটি মুহূর্ত শেয়ার করেছিলেন। যা এখন ভক্তদের কাছে হৃদয়বিদারক এক স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে পঞ্জাবি গায়ক হাসিমুখে ছোট্ট মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন আর হাতে গাঁদা ফুল। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল। বাবা–মেয়ের একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তটাই যে স্মৃতি হয়ে যাবে সেটা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেননি হারমান।
হারমান সিধু তাঁর হিট ক্যাসেট ট্র্যাক ‘পেপার তে পিয়ার’-এর সুবাদে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। মঞ্চশিল্পী হিসেবেও ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত। গায়িকা পূজার সঙ্গে একাধিক অ্যালবামে কাজ করে তিনি আরও বেশি শ্রোতার মন জয় করেন। তাঁর গাওয়া ‘কই চক্কর নাই’, ‘বেবে বাপু’, ‘বাব্বার শের’, ‘মুলতান ভিএস রাশিয়া’সহ বেশ কিছু গান দর্শক-শ্রোতাদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
ব্যক্তিজীবনে তিনি স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে মাদকসহ বন্ধুদের সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সিধু। তখন তিনি পুলিশকে জানান, ছয়-সাত মাস ধরে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং দিল্লিভিত্তিক এক নাইজেরিয়ান নাগরিকের কাছ থেকে নিয়মিত কম দামে এসব মাদক সংগ্রহ করতেন।