অন্ধকার দুনিয়া, আন্ডারওয়ার্ল্ড আর গ্যাংস্টারদের গল্প সিনেপর্দায় নতুন নয়। কিন্তু জন্মদিনে মাত্র তিন মিনিটের ঝলকে ‘কেজিএফ’ তারকা যশ যে বিস্ফোরক উপস্থিতি দেখালেন, তাতে বৃহস্পতিবার থেকেই নেটভুবন জুড়ে একটাই আলোচনা ‘টক্সিক’।
প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, জন্মদিনে নতুন অবতারে ধরা দেবেন। কথা রাখলেন যশ। ৮ জানুয়ারি তিনি হাজির হলেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের ‘টক্সিক কিং’ রূপে। ‘লার্জার দ্যন লাইফ’ টিজারে বোমাবাজি, গোলাগুলি, বারুদের গন্ধে ম-ম করা গোরস্থান সবকিছুর মধ্যেই দেখা গেল এক নির্মম, নির্লিপ্ত চরিত্রকে। মার্চে যে রক্তস্নানের অপেক্ষা, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে টিজারের প্রথম ঝলকেই।
এই গল্প কোনো চেনা নায়কের নয়। বরং অন্ধকারের আড়ালে রাজত্ব চালানো এক গ্যাংস্টার—রায়ার। ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ নামেই নির্মাতারা বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই রূপকথা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। মিনিট তিনেকের টিজার শুরু হয় গোরস্থানের এক কবরের দৃশ্য দিয়ে। শোকের আবহ ভেঙে আচমকাই ডন স্টাইলে আবির্ভাব রায়ারের। মুহূর্তে বদলে যায় পরিস্থিতি। বোমার বিস্ফোরণ, মুহুর্মুহু গুলির শব্দ, রক্তারক্তি। অথচ তাতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয় রায়ার। সে তখন গাড়ির ভেতর প্রেয়সীর সঙ্গে মত্ত। দৃশ্য শেষে সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে ফের শুরু হয় অ্যাকশন।
এই রগরগে টিজার দেখেই নেটপাড়ায় ভবিষ্যদ্বাণী, ‘‘এই সিনেমা ‘অ্যানিম্যাল’ আর ‘ধুরন্ধর’-এরও বাবা হতে চলেছে!’’ প্রশংসায় মুখর করণ জোহর, সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গারার মতো নির্মাতারাও।
পরিচালক গীতু মোহনদাসের এই ছবি মুক্তি পাবে ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ, বিশ্বজুড়ে। গল্পের পটভূমি নয়ের দশকের গোয়া যেখানে মাদকচক্র, অপরাধ আর ক্ষমতার দাপটে গড়ে উঠেছে এক নিষ্ঠুর সাম্রাজ্য। সেই অন্ধকার, সেই নিষ্ঠুরতারই প্রথম ঝলক জন্মদিনে উপহার দিলেন যশ।
মূলত কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় নির্মিত হলেও টক্সিক মুক্তি পাবে হিন্দি, তেলুগু, তামিল ও মালয়ালম ভাষায়। কিয়ারা আদবানি, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ছাড়াও ছবিতে রয়েছেন নয়নতারা ও রুক্মিণী বসন্ত। তাই দক্ষিণের গণ্ডি পেরিয়ে হিন্দি বলয়েও যে এই ‘অন্ধকার রূপকথা’ বড় ব্যবসা করবে, তা আন্দাজ করাই যায়।