বার্লিনের স্বর্ণভালুক জিতল ‘ইয়েলো লেটার্স

রাজনীতি, শিল্প আর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির টানাপোড়েনে ভরা এক বিতর্কিত আসরের পর্দা নামল নাটকীয় সমাপ্তিতে। বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ সম্মান স্বর্ণভালুক (গোল্ডেন বিয়ার) জিতেছে ‘ইয়েলো লেটার্স’। জার্মান-তুর্কি নির্মাতা ইলকার চাতাক পুরস্কারটি গ্রহণ করেন জুরি বোর্ডের সভাপতি ভিম ভেন্ডার্সের হাত থেকে।

রাষ্ট্র বনাম শিল্প
ছবিটির গল্প সমসাময়িক তুরস্কে বসবাসরত এক নাট্যকার ও তাঁর অভিনেত্রী স্ত্রীকে ঘিরে। প্রতিবাদী থিয়েটারচর্চার কারণে তারা রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও দমননীতির মুখে পড়েন। ব্যক্তিগত জীবন, পেশা ও সামাজিক অবস্থান—সবকিছুই ভেঙে পড়তে থাকে।

চলচ্চিত্রটির বড় বৈশিষ্ট্য এর ফর্মাল নির্মাণকৌশল। কাহিনি তুরস্কে আবর্তিত হলেও পুরো শুটিং হয়েছে জার্মানিতে। এমনকি জার্মান শহরগুলোকেই টাইটেল কার্ডে তুরস্কের শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; যা ছবিটিকে দিয়েছে এক ভিন্ন রাজনৈতিক ও নান্দনিক মাত্রা।

পুরস্কার ঘোষণার সময় ভেন্ডার্স বলেন, ছবিটি ‘সর্বাধিনায়কতন্ত্রের রাজনৈতিক ভাষা’র বিপরীতে ‘সহমর্মিতার সিনেমার ভাষা’ দাঁড় করিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ভীতিকর আভাস দিয়েছে।

৪২ বছর বয়সী চাতাকের জন্য এটি ক্যারিয়ারের বড় মাইলফলক। তাঁর আগের ছবি ‘দ্য টিচার্স লাউঞ্জ’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়িয়েছিল এবং অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিল। দীর্ঘ ২২ বছর পর কোনো জার্মান-তুর্কি নির্মাতা বার্লিনে শীর্ষ পুরস্কার জিতলেন, সবশেষে ২০০৪ সালে এই সম্মান পেয়েছিলেন ফাতেহ আকিন।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার

সিলভার বিয়ার গ্র্যান্ড জুরি প্রাইজ
এই পুরস্কার উঠেছে ‘স্যালভেশন’ ছবির ঝুলিতে। পরিচালক এমিন এললার ২০০৯ সালে তুরস্কের কুর্দি অঞ্চলের এক বাস্তব ঘটনার প্রেরণায় ছবিটি নির্মাণ করেছেন। তিনি এটিকে বৃহত্তর জাতিগত সংঘাত এবং ফিলিস্তিন প্রসঙ্গের রূপক হিসেবেও দেখেন। পুরস্কার গ্রহণের সময় গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা একা নন’—যা হলে ব্যাপক করতালি তোলে।

জুরি প্রাইজ (তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মান)
মার্কিন নির্মাতা ল্যান্স হ্যামারের ‘কুইন অ্যাট সি’। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এক দম্পতিকে ঘিরে নির্মিত এই পারিবারিক নাটকটি সেরা পার্শ্বচরিত্রের সিলভার বিয়ারও জিতেছে—অভিনেতা টম কোর্টনি ও আনা কাডলার-মার্শাল।

সেরা পরিচালক
ব্রিটিশ নির্মাতা গ্রান্ট গি জিতেছেন ‘এভরিবডি ডিগস বিল ইভানস’ ছবির জন্য। মার্কিন জ্যাজ পিয়ানোবাদক বিল ইভানসকে নিয়ে নির্মিত এই জীবনীচিত্রে অভিনয় করেছেন নরওয়েজিয়ান তারকা অ্যান্ডার্স ড্যানিয়েলসেন লাই।

সেরা প্রধান অভিনয় (জেন্ডার-নিরপেক্ষ)
সিলভার বিয়ার পেয়েছেন জার্মান অভিনেত্রী সান্দ্রা হুলার। মার্কুস শ্লাইনৎসার পরিচালিত ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি ‘রোজ’–এ সপ্তদশ শতকের এক নারী, যিনি পুরুষ সেজে জীবনযাপন করেন, এই জটিল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি সম্মানিত হন। ২০ বছর আগে বার্লিনেই প্রথম পুরস্কার জেতার স্মৃতি স্মরণ করে মজা করে তিনি বলেন, ‘তখন মনে হয়েছিল আমি বোধ হয় মরে যাব!’ তাঁর এ কথায় হলে হাসির রোল ওঠে।