চলতি বছর টাইম ম্যাগাজিনের শীর্ষ প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ইরানের প্রখ্যাত নির্মাতা জাফর পানাহি। সেখানে রাষ্ট্রীয় চাপ ও সেন্সরশিপ জটিলতার মুখেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় অবিচল এই নির্মাতার সিনেমা নির্মাণের অদম্য স্পৃহাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই নির্মাতাকে নিয়ে টাইমের ফিচারে বলা হয়, ‘বহু বছর ধরেই সিনেমার সেন্সরশিপ নিয়ে জটিলতা ও রাষ্ট্রীয় চাপের মুখে তিনি সিনেমা নির্মাণ করে চলেছেন। নিজের দেশেই তিনি সিনেমা নির্মাণ করতে গিয়ে বারবার ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। সিনেমা বানানোর জন্য বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন এই নির্মাতা।’
আরও বলা হয়, ‘এমন এক সময়ে, যুদ্ধের ভয়াবহতার আগেও, স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত হাজার হাজার ইরানিকে যখন হত্যা করা হয়েছিল, তখন তাঁর শিল্পকর্ম সততার সঙ্গে জরুরি অবস্থার সেসব মুহূর্ত তুলে ধরেছিল। শিল্পের জন্য বারবার কারারুদ্ধ হলেও তিনি থেমে থাকেননি।’
সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হলে, এক সাক্ষাৎকারে মাতৃভূমি ইরানে ফেরার ব্যকুলতা প্রকাশ করেন পানাহি। তখন তিনি সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টিও আঁচ করেছিলেন। এক প্রশ্নে তাঁর ভাষ্য ছিল, ‘একবছরের জন্য জেলে যাব, বেরিয়ে আসব একটি নতুন চিত্রনাট্য নিয়ে!’
নির্মাতার এই কথা মজার ছলে কিংবা যা-ই হোক, এর আগে তাঁর ক্ষেত্রে এমন হয়েছে। যেমন, গত বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপাম পুরস্কার লাভ করেছে তাঁর সিনেমা ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’। পাশাপাশি সিনেমাটি অস্কারের দুটি বিভাগে মনোনয়নও পেয়েছিল। সিনেমাটির চিত্রনাট্য তিনি লিখেছিলেন জেলে বসেই। পরে গোপনে তা ইরানে শুট করা হয়। যেখানে তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যে থাকা একটি জাতির ন্যায়বিচারের সীমিত প্রত্যাশা ও মানসিক ক্ষতের চিত্র তুলে ধরেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে পানাহিকে আবারও একবছরের কারাদণ্ড এবং তাঁর শিল্পকর্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ইরানের আদালত। বিষয়টি উল্লেখ করে টাইম লিখেছে, ‘প্রত্যাশিতভাবেই শাসকগোষ্ঠী তাঁর অনুপস্থিতিতে একবছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেয় এবং সেইসঙ্গে তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবুও তিনি অবিচল। অকপট ও গভীর মানবিক গল্প বলার মাধ্যমে জাফর আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, শিল্প তাঁর সর্বোচ্চ শক্তিশালীরূপে স্বাধীনতারই এক প্রকাশ।’
যে ক’জন ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা সিনেমার ভাষা বদলে দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম জাফর পানাহি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি ইরানের আরেক কিংবদন্তি নির্মাতা আব্বাস কিয়ারোস্তামির সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম ফিচার ফিল্ম ‘দ্য হোয়াইট বেলুন’। ছবিটি কান চলচ্চিত্র স্বর্ণপাম পুরস্কার জিতেছিল। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর ‘দ্য মিরর’ দর্শকরা খুব পছন্দ করেন। ২০০০ সালে দর্শককে তিনি উপহার দেন আরেক মাস্টারপিস ‘দ্য সার্কেল’। সব ক’টি সিনেমায় রূপক হিসেবে প্রতিবাদী গল্প উঠে আসে।
চলতি বছর টাইম ম্যাগাজিনের প্রকাশিত শীর্ষ প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় শিল্পী হিসেবে প্রথম স্থানে রয়েছেন মার্কিন গায়ক লুক কম্বস। টাইম তাঁর সম্পর্কে বলেছে, ‘তিনি চারপাশের মানুষদের প্রতি স্নেহশীল ও দয়ালু থেকে সংগীতের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছেন।’ পাশাপাশি এই শীর্ষ প্রভাবশালীর তালিকায় আরও রয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ান গায়িকা জেনি, মার্কিন অভিনেত্রী কেকে পামার, ডাকোটা জনসন, অভিনেতা নোয়া ওয়াইল প্রমুখ।