বাংলায় নায়ক জসিম হয়েছিলেন ‘শোলে’র গব্বার সিং

জসিমের আসল নাম আবদুল খায়ের জসিম উদ্দিন। ১৯৭৩ সালে পরিচালক জহিরুল হকের 'রংবাজ' (বাংলাদেশের প্রথম অ্যাকশন ছবি) ছবিতে খলনায়ক হিসেবে অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। একই পরিচালকের পরিচালনায় 'সবুজ সাথী' চলচ্চিত্রে প্রথমবার প্রধান চরিত্রে নাম লেখান এই নায়ক।

নায়ক জসিম একজন মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেন তিনি।

সিনেমার একটি দৃশ্যে নায়ক জসিম। ছবি: সংগৃহীত

ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যবসাসফল এই নায়ক ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেন নির্মাতা দেওয়ান নজরুলের ‘দোস্ত দুশমন’ ছবির মাধ্যমে। সিনেমাটি ছিল সাড়া জাগানো হিন্দি ফিল্ম ‘শোলে’র রিমেক। ছবিতে তিনি গব্বার সিং চরিত্রটি করেছিলেন। খোদ ‘শোলে’র ‘গব্বার সিং’খ্যাত অভিনেতা আমজাদ খান পর্যন্ত তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

জসিম নেই, রয়ে গেছে তাঁর স্মৃতিচিহ্ন। নায়কের মৃত্যুর পর এফডিসির ২ নম্বর ফ্লোরের নামকরণ করা হয় ‘মুক্তিযোদ্ধা চিত্রনায়ক জসিম ফ্লোর’।

এমনকি জসিমই একমাত্র নায়ক, যিনি পর্দায় শাবানার সঙ্গে প্রেমিক ও ভাইরূপে অভিনয় করেছেন। দুটি চরিত্রই দর্শকের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। যেমন, শাবানা 'সারেন্ডার' ছবিতে জসিমের প্রিয়তমা হিসেবে সফল হয়েছেন, সেই শাবানা ‘অবদান’ কিংবা ‘মাস্তান রাজার’ মতো ছবিতে জসিমের বড় বোন হিসেবেও সফল হয়েছিলেন।

চলচ্চিত্রের দৃশ্যে শাবানা-জসিম। ছবি: সংগৃহীত

আজকের চিত্রনায়ক রিয়াজকে আবিষ্কার করেছিলেন জসিমই। ১৯৯৪ সালে রিয়াজ তাঁর চাচাতো বোন অভিনেত্রী ববিতার সঙ্গে বিএফডিসিতে ঘুরতে এসে নায়ক জসিমের নজরে পড়েন। তখন তাঁকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন জসিম। ১৯৯৫ সালে 'বাংলার নায়ক' নামের একটি ছবিতে স্ক্রিন শেয়ার করেন জসিম-রিয়াজ।

জসিমের তিন ছেলে। রাতুল, রাহুল ও সামি। তাঁদের মধ্যে রাতুল ও সামি ‘ওন্ড’ ব্যান্ডের বেজিস্ট ও ড্রামার। অন্যদিকে, রাহুলও সংগীতের সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ‘ট্রেইনরেক’ ব্যান্ডে গিটারিস্ট হিসেবে ছিলেন তিনি। সম্প্রতি এই ব্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয় তাঁর। বর্তমানে রাহুল ব্যস্ত রয়েছেন পডকাস্ট নিয়ে। এছাড়া ‘পরাহ’ নামে আরও একটি ব্যান্ডের ড্রামার সামি।

জসিমের প্রথম স্ত্রী ছিলেন ড্রিমগার্লখ্যাত নায়িকা সুচরিতা। পরে তিনি ঢাকার প্রথম সবাক ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’-এর নায়িকা পূর্ণিমা সেনগুপ্তার মেয়ে নাসরিনকে বিয়ে করেন। এই সংসারেই জন্ম তিন ছেলের।