উৎসব থেকে কেন বেরিয়ে এসেছিলেন, জানালেন রোজিনা

শনিবার (২০ জানুয়ারি) পর্দা উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। আয়োজনের প্রথম দিনই ঘটে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। হুট করেই অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী রোজিনা। বিষয়টি নিয়ে হয়েছে সমালোচনাও। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন রোজিনা নিজেই। জানান, তিনি অপমানিত বোধ করায় সেদিন অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছিলেন।   

জানা যায়, এবারের উৎসবে অন্যতম আকর্ষণ ভারতীয় অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তিনি। জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বসেছিল এই উদ্বোধনী পর্ব। সে দিন কয়েক মিনিট দেরিতে সেখানে প্রবেশ করেন অভিনেত্রী রোজিনা। নিজ হাতে ভিড় ঠেলেই সামনের দিকে এগিয়ে আসতে হয় তাঁকে। কেউ গিয়ে স্বাগত জানায়নি। আয়োজকরা কোনো আসনও সংরক্ষণ করেননি তার জন্য। এমনকি শর্মিলাও তখন দর্শক সারির সোফায় বসেছিলেন। ততক্ষণে তিনিসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা যেখানে বসেছিলেন, সেগুলোও বেদখল হয়ে গেছে। উপায় না পেয়ে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় রোজিনাকে। কিন্তু ভালো করে চেনার পরও কেউ তাঁর জন্য আসন ছেড়ে দাঁড়াননি। শমী কায়সারের মতো অভিনেত্রীও নির্বিকারভাবে বসে ছিলেন। তার কিছুক্ষণ পরই হুট করে মিলনায়তন থেকে বেরিয়ে পড়েন রোজিনা।

রোজিনা বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। যখন ঘোষণা করা হচ্ছিল তখন আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন—বলা হচ্ছিল, অনেক দর্শক দেখতে পারছি। অবশ্যই, এত বড় একটা গ্যালারি, দর্শক তো থাকবেই। কিন্তু আমরা তো চলচ্চিত্রের মানুষ, তাই নয় কি? চলচ্চিত্রের হয়তো কেউ এসেছেন, কেউ আসেনি। রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম ছিল। ২৮ তারিখে এই উৎসব শেষ হবে, সেদিনও হয়তো কেউ কেউ আসবেন। তো দুঃখজনক হলো—আমাদের কথা ঘোষণা করা হলো না। বিদেশিদের কাছে এটা লজ্জার। চলচ্চিত্রের একজন হলেও এসেছি। আমাদের চলচ্চিত্রের মানুষরা রয়েছেন, অনেক দর্শক এসেছেন এবং মিডিয়ার ভাইবোনকে দেখতে পাচ্ছি... আমাদের খুব ভালো লাগছে। যিনি ঘোষণা করেছেন, তিনি কিন্তু এই কথাগুলো একটিবারের জন্যও বলেননি। এতে আমাদের চলচ্চিত্রের মানুষদের অপমান করা হয়। বিদেশ থেকে চলচ্চিত্রের মানুষেরা যাঁরা এসেছেন, তাঁরা মনে করবেন—বাংলাদেশে একটি উৎসব হচ্ছে অথচ চলচ্চিত্রের কেউ আসেননি।’

যোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি থাকাতেই কী, না থাকাতেই কী! এতে কিছু আসে যায় না! তবে আশা করব, পরবর্তী সময়ে এই উৎসবে চলচ্চিত্রের একজনও যদি আসেন, তাহলে তাঁর নাম না নেওয়া হোক; অন্তত আমাদের চলচ্চিত্রের মানুষদের দেখতে পাচ্ছি, উপস্থিত আছেন—এই কথাগুলো যেন বলা হয়।’

উল্লেখ্য, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনিই উৎসবের উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আমন্ত্রিত অতিথিরা মঞ্চে বসেছিলেন। তবে সেখানে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করেন—এমন কেউ ছিলেন না।