সিনে পর্দায় বন্ধুত্বের ছাপ

‘একজন সত্যিকারের বন্ধু তোমাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে’—বন্ধুত্ব নিয়ে এই মন্তব্য করেছেন আইরিশ কবি-নাট্যকার অস্কার ওয়াইল্ড। বন্ধুত্বের ছাপ রয়েছে বেশকিছু চলচ্চিত্রেও। আজ বন্ধু দিবসে (৪ আগস্ট) জেনে নেওয়া যাক শূন্য দশকের পর দেশে নির্মিত কিছু চলচ্চিত্রের কথা—

নেটওয়ার্কের বাইরে
বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে নির্মিত ওয়েব ফিল্ম ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’। ২০২১ সালে চলচ্চিত্রটির স্ট্রিমিং হয় চরকিতে। এটি নির্মাণ করেন মিজানুর রহমান আরিয়ান। সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে মুন্না, আবির, সিফাত ও রাতুল নামের চার বন্ধুকে ঘিরে। বন্ধুত্বের পাশাপাশি এতে উঠে এসেছে পরিবার ও প্রেমের মতো প্রসঙ্গ। চার বন্ধু মিলে একটা ট্যুরের প্ল্যান করে। একসঙ্গে এটা তাদের জীবনের প্রথম ট্যুর। সকলের ইচ্ছে, প্রতিবছর যেন তাদের এমন একটা ট্যুর হয়। তবে হঠাৎ এমন কিছু ঘটে যায়, যা বদলে দেয় সবার জীবন। ওয়েব ফিল্মটিতে অভিনয় করেছেন শরীফুল রাজ, ইয়াশ রোহান, খায়রুল বাসার, জুনায়েদ বোগদাদী, নাজিয়া হক অর্ষা, তাসনিয়া ফারিণ, নাজিফা তুষি, তাসনুভা তিশা, শামীমা নাজনীন, মানস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

মারজুক ও ফেরদৌস। ছবি: ইমপ্রেসব্যাচেলর
নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর এ সিনেমা মুক্তি পায় ২০০৪ সালে। যেখানে উঠে আসে একদল অবিবাহিত শহুরে বন্ধুদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের টানাপোড়নের উপাখ্যান। দেখা যায় যে, ভালোবাসায় বিশ্বাস নেই সাথীর, কিন্তু ফাহিম আর রুমেলের সঙ্গে রয়েছে তার বেশ সখ্যতা। এক পর্যায়ে সাথীকে নিয়ে মানবিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে এই দুই বন্ধু। এদিকে, চল্লিশোর্ধ হাসান প্রেমে পড়ে অল্পবয়সী শায়লার। কিন্তু কিছুতেই তার সেই অনুভূতি প্রকাশ করা হয়ে ওঠে না। আবরার সাহেব ইতিমধ্যে পার করেছেন জীবনের ৫০ বসন্ত, কিন্তু এখনও খুঁজে পাননি তার কাঙ্ক্ষিত ভালোবাসার মানুষকে। এসব জটিল সম্পর্কের কোনো কোনোটি পায় সফল সমাপ্তি, কেউ-বা আবার ঘুরতেই থাকে ব্যর্থতার একই বৃত্তে। কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের গল্পে নির্মিত এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল, ফেরদৌস, শাবনূর, অপি করিম, হুমায়ুন ফরীদি, মারজুক রাসেল, জয়া আহসান প্রমুখ।

পুনর্মিলনে
কাজিনদের মাঝে বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে নির্মিত ওয়েব ফিল্ম ‘পুনর্মিলনে’। এটিও পরিচালনা করেছেন মিজানুর রহমান আরিয়ান। যেখানে কাজিনদের সম্পর্কের নানান বাঁক, আনন্দ-হাসি, অভিমান, টানাপোড়েন, সংশয় আর দ্বন্দ্বের গল্প ফুটে উঠে। সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে জুটি বেঁধেছেন সিয়াম আহমেদ ও তাসনিয়া ফারিণ। আরও অভিনয় করেছেন শাশ্বত দত্ত, নূর ইমরান মিঠু, তাজনূভা জাবীন, নওবা তাহিয়া, দীপ্ত দে, জান্নাতুল ফেরদৌস কাজল, টুনটুনি হামিদ, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, শোয়েব মনির, হামিদুর রাহমান, গোলাম ফরিদা ছন্দা, মালা ভট্টাচার্য প্রমুখ। গত বছর এটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে উন্মুক্ত হয়।

রেডরাম
শহরের এক বিখ্যাত ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনা দিয়ে শুরু হয় অরিজিনাল ফিল্ম ‘রেডরাম’। তবে এই থ্রিলার ঘরানার সিনেমাটি আবর্তিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া চার বন্ধুকে ঘিরে। মার্ডার মিস্ট্রির পাশাপাশি এতে বন্ধুত্বের বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। পরিচালনা করেছেন ভিকি জাহেদ। অভিনয়ে আরও রয়েছেন মনোজ প্রামাণিক, সালহা খানম নাদিয়া, নাসির উদ্দিন খান, আজিজুল হাকিম, মাসুম বাশার, শিল্পী সরকার অপু, মুকুল সিরাজ প্রমুখ।

আমার বন্ধু রাশেদের একটি দৃশ্যআমার বন্ধু রাশেদ
মফস্বল শহরের স্কুলের ছাত্র রাশেদ ও তার বন্ধুরা মিলে উদ্ধার করে এক বন্দি মুক্তিযোদ্ধাকে। এরপর মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে যায় রাশেদও এবং রাজাকারের গুলিতে শহীদ হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক বছর পর বন্ধু ইবু তার ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে আসে কিশোরবেলার স্মৃতিমাখা সেই স্থানে, তখন মনে পড়ে রাশেদকে। মুহম্মদ জাফর ইকবালের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে এটি নির্মাণ করেন মোরশেদুল ইসলাম। রাশেদের ভূমিকায় অভিনয় করেন চৌধুরী জাওয়াতা আফনান। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, গাজী রাকায়েত প্রমুখ।

দারুচিনি দ্বীপ
প্রখ্যাত লেখক-নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের একই শিরোনামের উপন্যাস অবলম্বনে ‘দারুচিনি দ্বীপ’ (২০০৭) পরিচালনা করেন অভিনেতা-নির্মাতা তৌকীর আহমেদ। তারুণ্যের জয়গান, ভালোবাসা ও পারিবারিক সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেও এ ছবিতে ফুটে উঠেছে বন্ধুত্ব। অভিনয় করেছেন রিয়াজ, জাকিয়া বারী মম, মোশাররফ করিম, বিন্দু, মামনুন ইমন, মুনমুনসহ অনেকে।