শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি আরমান, সাধারণ সম্পাদক পদে মুক্তি

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন আগামী ৩ জুলাই হওয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে প্যানেল গোছানো নিয়ে ব্যস্ত আগ্রহী প্রার্থীরা। এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন অসংখ্য বাংলা চলচ্চিত্রের অ্যাকশন দৃশ্যের অন্যতম পরিচিত ও দক্ষ সিনিয়র ফাইট ডিরেক্টর আরমান।

তিনি একাধারে অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক। শিল্পী সমিতির কমিটিতে একাধিকবার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ আরমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলিয়েছেন। এবারই প্রথম সভাপতি পদে লড়তে যাচ্ছেন। আরমানের প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে লড়বেন ‘চাঁদের আলো’খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুমানা ইসলাম মুক্তি। তাঁরা দু’জনই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরমান বলেন, ‘সিনিয়র-জুনিয়র শিল্পীদের আগ্রহে এবার সভাপতি পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিগত সময়ে যতবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছি শিল্পীরা আমাকে নিরাশ করেননি। এবারও আশা করব তাঁরা আমাকে কাজের সুযোগ করে দিবেন। শিল্পী সমিতি নিয়ে আমাদের বেশকিছু পরিকল্পনা আছে। আমি আর মুক্তি নির্বাচিত হলে শিল্পীদের কল্যাণে তা বাস্তবায়নের জন্য নিরলস চেষ্টা করব।’

সম্প্রতি শোনা গিয়েছিল, আসন্ন শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়বেন একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা বাপ্পারাজ। যদিও অবশেষে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তিনি—এমনটা জানিয়ে মুক্তি বলেন, ‘ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে বাপ্পা ভাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। যে কারণে সাধারণ সদস্যদের আগ্রহে আরমান মামা সভাপতি পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। গুণী শিল্পীদের নিয়ে আমরা সুন্দর একটি প্যানেল চূড়ান্ত করেছি। আমরা নির্বাচিত হলে শিল্পীদের জন্য কাজ করব।’

এই অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘মায়ের স্বপ্ন, শিল্পীদের অনুরোধ এবং দীর্ঘদিনের সংগঠনিক অভিজ্ঞতা মিলেই এবার সাধারণ সম্পাদক পদে আমি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা নির্বাচিত হলে শিল্পীদের যে সকল সমস্যা রয়েছে তা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। শুধু কথায় নয়, আমরা কাজে বিশ্বাসী। গত দেড় বছরে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে থেকেও অনেক কাজ করেছি। আমরা আগামী দিনেও কাজে প্রমাণ দিতে চাই।’

আসন্ন এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচিত হয়েছেন চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক এবং বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাব লিমিটেড’র সাবেক সভাপতি কামাল মো. কিবরিয়া লিপু। আপিল বোর্ড প্রধান করা হয়েছে একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ছটকু আহমেদকে।

গত দেড় বছরে সহকর্মী শিল্পীদের সঙ্গে নানা সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন মুক্তি। শিল্পীদের একটি অংশ মনে করছেন, তাঁর দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও শিল্পীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে।

মুক্তির মা আনোয়ারা বেগম দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। মেয়ের এই নতুন সাংগঠনিক যাত্রায় মায়ের ভূমিকা তাই আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। সব মিলিয়ে মায়ের স্বপ্নপূরণ, শিল্পীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নতুন এক যাত্রায় পা রাখছেন মুক্তি। সেইসঙ্গে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন অভিজ্ঞ সিনিয়র ফাইট ডিরেক্টর আরমান। এখন দেখার বিষয়, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভোটের মাঠে এই সম্পর্ক ও ঐতিহ্যের প্রভাব কতটা কাজ করে।