আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা ও সম্মাননা অর্জনের পর এবার দেশের দর্শকদের সামনে আসছে মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মাস্তুল’। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশের ৫টি আধুনিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।
নির্মাতা জানান, প্রথম ধাপে রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে মাস্তুল। রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধরা শাখায় প্রতিদিন দুটি করে শো চলবে, এরমধ্যে একটি শো দুপুর ২টায় এবং অন্যটি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। একইভাবে স্টার সিনেপ্লেক্স নারায়ণগঞ্জ শাখাতেও থাকবে প্রতিদিন দুটি প্রদর্শনী।
এ ছাড়া যমুনা ব্লকবাস্টার, লায়ন্স সিনেমা এবং নারায়ণগঞ্জের সিনেস্কোপে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।
সম্প্রতি ধানমন্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত বিশেষ প্রদর্শনীতে মাস্তুল’র নির্মাণশৈলী, অভিনয় ও বিষয়বস্তুর প্রশংসা করেন দেশের চলচ্চিত্র, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা। বিশেষ করে নদী ও বন্দরকেন্দ্রিক প্রান্তিক মানুষের জীবনকে বড়পর্দায় তুলে ধরার জন্য নির্মাতার ভূয়সী প্রশংসা করেন বরেণ্য চলচ্চিত্রকার মসীহউদ্দিন শাকের, নির্মাতা শাহীন দিল রিয়াজ ও হুমায়রা বিলকিসসহ অনেকেই।
এর আগে গত বছর ৪৭তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নেয় মাস্তুল। সেখানে চলচ্চিত্রটি অর্জন করে ‘স্পেশাল মেনশন’ সম্মাননা, যা বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মাস্তুল-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানিবাহী তেলের ট্যাংকারের বৃদ্ধ পাচক মকবুল এবং বন্দর এলাকার পথশিশু নূরাকে ঘিরে। তাদের সম্পর্কের মধ্যদিয়ে উঠে এসেছে নদী ও বন্দরনির্ভর মানুষের জীবন, একাকীত্ব, মানবিক টানাপোড়েন, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং টিকে থাকার সংগ্রাম।
সিনেমাটিতে মকবুল চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসানসহ আরও অনেকে।
‘সিনেমাকার’ প্রযোজিত ‘মাস্তুল’-এর ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রচারণায় রয়েছে টঙঘর টকিজ। ওটিটি ও টেলিভিশন পার্টনার হিসেবে রয়েছে আইস্ক্রিন ও চ্যানেল আই। সিনেমাটির চিত্রগ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান, শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন হুসনাইন লিঙ্কন, সংগীত পরিচালনা করেছেন চৈতন্য রাজবংশী এবং কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন যুবরাজ শামীম। প্রচারণার গানের সংগীত পরিচালনা করেছেন লাবিক কামাল গৌরব।