৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামছে আজ। অরিজোন্তিসহ প্রতিযোগিতামূলক সব বিভাগের সেরা চলচ্চিত্রের নাম ঘোষণা হবে সমাপণী অনুষ্ঠানে। কিন্তু এর আগেই ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড প্রেমিও বিসাতো দ’ওরো অর্জন করেছে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা রুবাইয়াত হোসাইন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’।
চলতি বছর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের অরিজোন্তি প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হয়ে প্রথম বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড। এবার এই স্বীকৃতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল চলচ্চিত্রটি।
সমকালীন ঢাকাকে পটভূমি করে নির্মিত দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’র গল্প আবর্তিত হয়েছে জাইনীন নামের এক তরুণীকে ঘিরে, যে কিনা বিয়ের প্রস্তুতি ও সৌন্দর্যচর্চার নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে যেতে গিয়ে আবিষ্কার করে যে, তার শরীরই হয়ে উঠছে এক অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের ক্ষেত্র। নারীবাদী ফোক হরর, বডি হরর ও অতিপ্রাকৃত উপাদানের মিশেলে নির্মিত চলচ্চিত্রটি অনুসন্ধান করে কীভাবে নারীর শরীর পারিবারিক প্রত্যাশা, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে পরিণত হয়।
রুবাইয়াত হোসাইনের চলচ্চিত্র নির্মাণের যাত্রা এবং বাংলাদেশের সিনেমার জন্যও এই স্বীকৃতি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। পুরস্কারপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে রুবাইয়াত হোসাইন বলেন, ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড আমি খুবই অন্তরঙ্গ একটি জায়গা থেকে নির্মাণ করেছি। নারীরা কীভাবে নিজেদের শরীরকে ধারণ করতে, নিয়ন্ত্রণ করতে এবং কখনও কখনও নিজেদের শরীরকেই ভয় করতে শেখে, সেই ভাবনা থেকে। ভেনিসের ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকসদের কাছ থেকে এই স্বীকৃতি পাওয়া আমার জন্য গভীরভাবে অর্থবহ। আমি চাই, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শক বাংলাদেশকে শুধু তার সামাজিক বাস্তবতার মধ্যদিয়ে নয়, বরং তার কল্পনা, লোককথা, অন্ধকার এবং সৌন্দর্যের মধ্যদিয়েও আবিষ্কার করুক।’
বিসাতো দ’ওরো ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবকে ঘিরে প্রদান করা একটি ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড। এই স্বীকৃতি দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইডকে ভেনিস উৎসবের আন্তর্জাতিক সমালোচনামূলক আলোচনার আরও বিস্তৃত পরিসরে যুক্ত করেছে।
ভেনিসে নির্বাচনের পর থেকেই চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সমালোচকেরা দক্ষিণ এশিয়ার বিয়ের আচার-অনুষ্ঠানকে নারীবাদী ফোক-হররের এক স্বতন্ত্র চলচ্চিত্রভাষায় রূপান্তরের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিওয়্যার এই চলচ্চিত্রকে দক্ষিণ এশিয়ার বিয়ের প্রচলিত উপাদানকে ‘ফেমিনিস্ট ফোক হরর’-এ রূপান্তরিত করার একটি কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ফ্রাঁসোয়া দার্তেমার প্রযোজিত দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে ও পর্তুগালের একটি আন্তর্জাতিক যৌথ প্রযোজনা। চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক বিক্রয় ও পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে ফিল্মস ব্যুটিক।
ভেনিসের পর দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড তার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব যাত্রা অব্যাহত রাখবে। এর মধ্যে রয়েছে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে উত্তর আমেরিকা প্রিমিয়ার।
ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড। লেখক, পরিচালক ও প্রযোজক রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ৪র্থ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এটি।