একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস তথা অস্কারের দীর্ঘ নয় দশকেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পী হিসেবে সেরা অভিনেতা কিংবা অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতার ঘটনা একেবারেই হাতেগোনা। সৌভাগ্যবানদের এই তালিকায় জায়গা করতে পেরেছেন মাত্র ৬ জন। এর মধ্যে সেরার খেতাবজয়ী অভিনেত্রী একজনই, তিনি হ্যালি বেরি। নব্বই দশকের হলিউডে তাঁর বেশ জনপ্রিয়তা ছিল। ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মনস্টার বল’ ছবির জন্য অস্কারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার উঠেছিল তাঁর হাতে। তিনিই এখনও ‘হ্যালির ধূমকেতু’! সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জেতা প্রথম ও একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী।
১৯৮৯ সালে অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নিউইয়র্ক শহরে এসেছিলেন হ্যালি বেরি। এর আগে তিনি সুন্দরী প্রতিযোগিতা মিস ইউএসএ-তে প্রথম রানারআপ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে নিউইয়র্কে আসার পর বেরি ছিলেন আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত। এক প্রকার গৃহহীন জীবনও কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। তবে একই বছরের শেষদিকে এ অবস্থার খানিক পরিবর্তন হতে শুরু করেছিল। এবিসি টেলিভিশনের জনপ্রিয় ‘হু ইজ দ্য বস’ সিরিজের স্পিন-অফ ‘লিভিং ডল’-এ ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।
এরপর বেরির চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু হয় জীবন্ত কিংবদন্তি নির্মাতা স্পাইক লির হাত ধরে। তাঁর ‘জাঙ্গল ফিভার’ ছবিতে একজন মাদকাসক্তের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন এ অভিনেত্রী। তবে বিশ্বজুড়ে তিনি পরিচিতি পান ‘এক্স-মেন (২০০০)’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এতে তাঁর ‘স্টর্ম’ চরিত্রটি দর্শকরা বেশ পছন্দ করেছিলেন। তবে এর আগেই ১৯৯৯ সালের জীবনীনির্ভর চলচ্চিত্র ‘ইন্ট্রুডিউসিং ডরোথি ড্যান্ড্রিজ’-এ নাম ভূমিকায় অভিনয়ে তিনি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন। এই সুবাদে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডেও সেরা অভিনেত্রী বিভাগে প্রথম কোনো আফ্রো-আমেরিকান হিসেবে মনোনয়ন পান। তখন পুরস্কার না পেলেও এর বছরখানেক পর মার্ক ফস্টার পরিচালিত মনস্টার বল ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার উঠে তাঁর হাতে।
মনস্টার বল চলচ্চিত্রে লেটিসিয়া মুসগ্রোভ চরিত্রে অভিনয় করেছেন হ্যালি বেরি। তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন বিলি বব থর্নটন। সিনেমাটিতে এই অভিনেতা রয়েছেন হ্যাঙ্ক গ্রোটোস্কি চরিত্রে। রোমান্টিকধর্মী এই ছবিতে এক প্রেমিকযুগলের অন্ধকারাচ্ছন্ন বিয়োগান্তক পরিণতি ফুটে ওঠে। যেখানে বেরির পারফরম্যান্স ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।
অস্কার মঞ্চে নিজের নাম শুনে স্বাভাবিকভাবেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বেরি। কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। পুরস্কার নেওয়ার সময় তাঁর অস্কার ভাষণ ছিল খুবই আন্তরিক, যা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। স্বপ্নের মতো সেই মুহূর্তে বেরি বলেন, ‘ওহ মাই গড! ওহ মাই গড! আমি দুঃখিত। এই মুহূর্ত আমার জীবনের থেকেও অনেক বড়। স্পাইক লিকে ধন্যবাদ জানাতে হবে, তাঁর প্রথম সিনেমায় আমাকে নেওয়া এবং আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য।’
হ্যালি বেরির এমন ঐতিহাসিক জয় অন্যান্য কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রীর জন্য খুলে দিয়েছে নতুন দুয়ার। পরবর্তীতে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অক্টাভিয়া স্পেন্সার, লুপিটা নিয়ংও, ভায়োলা ডেভিস, রেজিনা কিংয়ের মতো প্রতিভাবান তারকারা। তবে এখনও বেরিই একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী, যিনি সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন।