দ্য গডফাদার

সর্বকালের সেরা এ সিনেমার কতটা জানেন

হলিউডের সেরা কিছু চলচ্চিত্রের নাম বললে সেখানে ‘দ্য গডফাদার’ যে থাকবে শীর্ষে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ১৯৭২ সালে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি আজও জনপ্রিয় সিনেমাপ্রেমীর কাছে। মারিও পুজোর ‘দ্য গডফাদার’ পৃথিবীর সবচেয়ে পঠিত, বিক্রিত উপন্যাসগুলোর একটি। এই উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করেই মুভি ট্রিলজি তৈরি হয়েছে, যেগুলো প্রতিটিই ব্যবসাসফল। আজ জানাব বিখ্যাত এই সিনেমাটির নির্মাণের পেছনের ১০টি চমকপ্রদ ঘটনা— 

উপন্যাসটির যখন মাত্র ১০০ পৃষ্ঠা লেখা হয়, তখন থেকেই প্যারামাউন্ট বইটির স্বত্বাধিকার কেনার পরিকল্পনা করতে থাকে এবং শেষে ৮০,০০০ ডলারে সেটি কিনে নেয়। প্যারামাউন্ট পিকচার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্ট্যানলি জেফি টেলিফোন করেন আলবার্ট রুডিকে (গডফাদারের নির্মাতা), এবং জিজ্ঞেস করেন তিনি কি গডফাদার মুভির নির্মাতা হতে চান? আলবার্ট তখনও বইটি পড়েননি। তাই তিনি সঙ্গে সঙ্গেই বইটি কিনে আনেন এবং অন্য সবার মতোই মুগ্ধ হয়ে যান।

সিনেমায় পুজো। ছবি: সংগৃহীতএকটি সাক্ষাৎকারে মারিও পুজো জানান, তিনি এবং পরিচালক কপোলা দুজনেই দুটি আলাদা স্ক্রিপ্ট লেখেন। পরে এই দুটি স্ক্রিপ্টকে একত্রিত করে তিন ঘণ্টার এক বিশাল পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হয়। এটি লেখা শেষে অভিনেতা-অভিনেত্রী নির্বাচন করার কাজ শুরু হলো। মুভিটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ভিটো কর্লিয়নির জন্য কপোলার প্রথম পছন্দই ছিলেন মার্লন ব্র্যান্ডো। কিন্তু প্যারামাউন্ট কপোলাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, যাকেই দেওয়া হোক, মার্লন ব্র্যান্ডোকে কোনোভাবেই এই চরিত্রটি দেয়া যাবে না। কারণ ব্র্যান্ডো তার চড়া মেজাজ এবং উদাসীনের কারণে দুর্নাম কামিয়েছিলেন।

ব্র্যান্ডো চেয়েছিলেন উপন্যাসের মতোই যাতে ভিটো কর্লিয়নিকে মুভিতে দেখা যায়। তাই ভিটোর মতো চোয়াল তৈরি করতে ব্র্যান্ডো তুলার বল ব্যবহার করে টেস্ট দেন। এরপরের ঘটনা সবার জানা। মার্লন ব্র্যান্ডো ভিটো কর্লিয়নি হিসেবে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য জন্য অস্কার জিতে নেন।

প্যারামাউন্ট চেয়েছিল কম খরচে, মাত্র ২.৫ মিলিয়ন বাজেটে মুভিটির কাজ শেষ করতে। এই নিয়ে বিরোধ বাধে পরিচালক কপোলার সঙ্গে। শেষে ২.৫ মিলিয়ন থেকে মুভির বাজেট গিয়ে দাঁড়ায় ৬ মিলিয়নে।

সিনেমাটি বেশ কম আলোতে শুট করা হয়েছে। বিশেষ করে মার্লন ব্র্যান্ডোর দৃশ্যগুলো। মুভির সিনেমাটোগ্রাফার গর্ডন উইলিসকে তার এই কাজের জন্য বলা হয় ‘প্রিন্স অব ডার্কনেস’।

এই কম আলো ব্যবহারের আরও একটি কারণ ছিল মার্লন ব্র্যান্ডোর মেকআপ ঢাকা। তখন ব্র্যান্ডোর বয়স ছিল ৪৫ বছর। তাই তাকে ৬২ বছরের ভিটো কর্লিয়নি দেখাতে এবং মুখে ভিটো কর্লিয়নির ভাব ফুটিয়ে তুলতে মার্লন ব্র্যান্ডোকে প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা মেকআপ চেয়ারে কাটাতে হত। ভিটোর চোয়াল তৈরি করতে আলাদা ডেন্টাল প্রস্থেটিক ব্যবহার করতে হয়েছিল তাকে।

মুভিটির কাজ চলাকালীন সময়েই কপোলাকে বরখাস্ত করে তার জায়গায় এলায়া কাজানকে নিতে চেয়েছিল প্যারামাউন্ট। মার্লন ব্র্যান্ডো হুমকি দিয়েছিলেন, যদি কপোলাকে বরখাস্ত করা হয়, তাহলে তিনি আর কাজ করবেন না।

স্টুডিও বলছিল মুভিটিতে সংলাপ অনেক বেশি, কিন্তু অ্যাকশন অনেক কম। স্টুডিওকে খুশি রাখতে বেশ কিছু সিন রিশুট করেন কপোলা। যার মধ্যে স্বামীর হাতে গর্ভবতী কনির মার খাওয়ার দৃশ্যটিও ছিল।

চলচ্চিত্রটির কাজ চলাকালীন সময়ে আল পাচিনোকেও বরখাস্ত করতে চেয়েছিল স্টুডিও। তার অভিনয়ও মোটেই পছন্দ হয়নি তাদের। কিন্তু সলোযো এবং ম্যাকক্লাস্কিকে হত্যার দৃশ্যটির পর স্টুডিও তার কাজে অবশেষে সন্তুষ্ট হয়।

১৯৭০ সালের অস্কার হাতে পরিচালক কপোলা ও অভিনেত্রী পুজো। ছবি: অস্কার একাডেমির সাইট থেকে নেওয়া১৯৭২ সালের ১৫ মার্চ মুক্তি পায় মুভিটি। তারপর যা হয় তা স্টুডিও, পরিচালক কিংবা অভিনেতারা কখনও কল্পনাও করেননি। মার্লন ব্র্যান্ডোর গডফাদার পোস্টারটি বিক্রি হয় কয়েক লাখ কপি। সে বছর অস্কারেও চলচ্চিত্রটির জয়জয়কার ছিল। ১০টি ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়ে জিতে নেয় তিনটি অস্কার, যার মধ্যে ছিল সেরা চলচ্চিত্র, সেরা অভিনেতা এবং সেরা অ্যাডাপটেড স্ক্রিনপ্লে।