কথায় আছে, নগরে আগুন লাগলে দেবালয় কিন্তু এড়ায় না। আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসে ভয়াবহ দাবানলের তাণ্ডব যেন এই কথাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যে ১,০০০-এরও বেশি বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। আগুন নেভাতে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছে দমকল বাহিনী। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে তীব্র পানিসংকট দেখা দিয়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অতিরিক্ত পানির কারণে রাস্তাঘাটের নর্দমাগুলোও শুষ্ক হয়ে গেছে।
দাবানলের শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হলিউডের নামী-দামী তারকারাও। জেনিফার অ্যানিস্টন, ব্র্যাডলি কুপার, টম হ্যাঙ্কস, বেন অ্যাফ্লেক, মাইকেল কিটন, অ্যাডাম স্যান্ডলারসহ অনেক সেলিব্রিটির বাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই এখন ঘরহারা।
অভিনেতা জেমস উডস এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ‘নিক্সন’ এবং ‘ক্যাসিনো’ সিনেমার এই অভিনেতা বলেন, ‘একদিন যে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটছিলাম, পরদিনই সবকিছু উধাও হয়ে গেল।’ চোখ মুছতে মুছতে তিনি আরও জানান, কীভাবে তাঁর ভাইজি নিজের পিগিব্যাঙ্ক ভেঙে বাড়ি পুনর্নির্মাণে সাহায্য করতে চেয়েছে।
অভিনেতা বিলি ক্রিস্টাল, যিনি ১৯৭৯ সাল থেকে প্যাসিফিক প্যালিসেডসের একটি বাড়িতে বসবাস করতেন, সেই বাড়িও দাবানলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ‘হ্যারি মেট স্যালি’খ্যাত এই তারকা বলেন, ‘এই বাড়িতে আমরা আমাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের বড় করেছি। প্রতিটি কোণ ভালোবাসায় পূর্ণ ছিল। এই স্মৃতিগুলো কখনো মুছে যাবে না।’
অভিনেত্রী এবং মডেল প্যারিস হিলটনও দাবানলের জেরে গৃহহারা হয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, ‘পরিবারের সঙ্গে বসে টিভির পর্দায় নিজের বাড়ি পুড়ে যেতে দেখার মতো কষ্ট যেন কেউ কখনো না পায়। এই বাড়িতে আমরা অমূল্য স্মৃতির ভাণ্ডার গড়ে তুলেছিলাম। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।’
জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’ অভিনেতা মাইলস টেলারও ঘরহারা হয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে নিজের পুড়ে যাওয়া বাড়ির ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। অন্যদিকে, ‘স্টার ওয়ার্স’ অভিনেতা মার্ক হ্যামিল জানান, ১৯৯৩ সালের পর এত ভয়াবহ দাবানল তিনি দেখেননি। সেবার ১৮,০০০ একর জমি পুড়ে গিয়েছিল এবং ৩২৩টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছিল।
দাবানলের ভয়াবহতার কারণে বহু গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্কার মনোনয়নের তারিখ পেছানোর সিদ্ধান্ত। ৮ থেকে ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ১৪ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।