‘ওপেনহাইমার’-এর হতাশা থেকেই ‘দ্য ওডিসি’! নোলানের বিস্ময়কর স্বীকারোক্তি

‘ওপেনহাইমার’ নির্মাণের পর মানসিকভাবে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন ক্রিস্টোফার নোলান। সেই হতাশা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতেই তিনি হাতে নেন নতুন ছবি ‘দ্য ওডিসি’। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন অস্কারজয়ী এই নির্মাতা।

নোলান বলেন, ‘ওপেনহাইমার শেষ করার পর আমার মধ্যে অদ্ভুতভাবে হতাশা আর আশাবাদ—দুটো অনুভূতিই কাজ করছিল। ছবিটি আমার কাছে প্রায় একটি হরর সিনেমার মতো ছিল। কয়েক বছর ধরে পারমাণবিক যুদ্ধ এবং মানুষের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা নিয়ে নিরন্তর ভাবতে হয়েছে। সেই মানসিক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতেই চেয়েছিলাম।’

তবে তাঁর ভাষায়, সেই চেষ্টা পুরোপুরি সফল হয়নি। ‘যখন ‘দ্য ওডিসি’ দেখবেন, তখন বুঝবেন আমি শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি সেখান থেকে বেরোতে পারিনি,’ বলেন তিনি।

হোমারের বিখ্যাত গ্রিক মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত ‘দ্য ওডিসি’-তে অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন, অ্যান হ্যাথাওয়ে, টম হল্যান্ডসহ হলিউডের একঝাঁক তারকা।

মজার বিষয় হলো, নতুন এই ছবি নির্মাণ করতে গিয়ে নিজের ‘ডার্ক নাইট’ ট্রিলজির সঙ্গে অপ্রত্যাশিত মিল খুঁজে পেয়েছেন নোলান। তাঁর ভাষায়, ‘একজন আইকনিক চরিত্রকে একই সঙ্গে মানবিক এবং জীবনের চেয়ে বড় করে তুলে ধরা—এই ভারসাম্যটাই ‘ডার্ক নাইট’ ট্রিলজিতে খুঁজেছি। ‘দ্য ওডিসি’তেও সেই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।’

নির্মাতা আরও জানান, মার্টিন স্করসেসির বিতর্কিত ছবি ‘দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস্ট’ তাঁকে ‘দ্য ওডিসি’ নির্মাণে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশেষ করে যিশু চরিত্রকে যেভাবে মানবিক ও জটিলভাবে তুলে ধরা হয়েছিল, সেখান থেকেই ওডিসিউস চরিত্র নির্মাণে সাহস পেয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘প্রি-প্রোডাকশনের সময় আমরা কয়েকটি চলচ্চিত্র দেখেছিলাম। এর মধ্যে ‘দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস্ট’-এর একটি প্রিন্টও সংগ্রহ করেছিলাম। এটি অসাধারণ এবং একই সঙ্গে চমকে দেওয়ার মতো একটি চলচ্চিত্র। স্করসেসি যেভাবে প্রযুক্তিগত দিকগুলো ব্যবহার করেছেন, তা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তবে তার চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলেছে যিশু চরিত্রটিকে তিনি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন। সেটি দর্শকদের জন্য ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং।’

আরও যোগ করে নোলান বলেন, ‘ওডিসিউস চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আপনি যদি চরিত্রটির সব দুর্বলতা, দ্বন্দ্ব ও জটিলতাকে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরতে চান, তাহলে সেটিই ‘দ্য লাস্ট টেম্পটেশন’-এর সবচেয়ে বড় শিক্ষা।’

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ‘দ্য ওডিসি’। এটি বিশ্বের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা সম্পূর্ণভাবে আইম্যাক্সের ৭০ মিলিমিটার ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। নোলানের আশা, তাঁর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও নির্মাতাকে একই প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করবে।