সময়, স্মৃতি ও বৈজ্ঞানিক জটিলতাকে পর্দায় রূপ দেওয়া বিশ্বখ্যাত পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন তার প্রিয় চলচ্চিত্রের একটি তালিকা। চলচ্চিত্র প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ক্রাইটেরিয়ন কালেকশনের সিরিজ 'ক্রাইটেরিয়ন ক্লোজেট' পরিদর্শনের সময় হলিউডের এই মাস্টারমাইন্ড নিজের পছন্দের সিনেমাগুলোর তালিকা তৈরি করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অরসন ওয়েলস, ডেভিড লিঞ্চ বা স্পাইক লি-র মতো কিংবদন্তি নির্মাতাদের পেছনে ফেলে নোলান তার এই তালিকার শুরুতেই স্থান দিয়েছেন সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী চলচ্চিত্র 'পথের পাঁচালী' (১৯৫৫)-কে।
নোলান জানান, 'পথের পাঁচালী' দেখে তিনি গভীরভাবে বিস্মিত হয়েছিলেন এবং খুব শিগগিরই অপু ট্রিলজির বাকি দুটি পর্বও দেখার ইচ্ছা রাখেন। নোলানের ভাষ্যমতে, এই সংকলনটি যেন তার নিজের চলচ্চিত্র যাত্রার এক গোপন মানচিত্র। তার পছন্দের তালিকায় আরও রয়েছে অরসন ওয়েলসের 'মিস্টার আরকাডিন' ও 'সিটিজেন কেন', ফ্রিটজ ল্যাং-এর 'দ্য টেস্টামেন্ট অফ ডক্টর মাবুসে', স্পাইক লি-র 'ম্যালকম এক্স', ডেভিড লিঞ্চের 'লস্ট হাইওয়ে', রবার্ট অল্টম্যানের 'দ্য প্লেয়ার' এবং রিচার্ড লিঙ্কলেটারের 'বয়হুড'-এর মতো বিখ্যাত সব সিনেমা।
নোলান প্রতিটি চলচ্চিত্রের পেছনে থাকা তার ব্যক্তিগত স্মৃতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ফ্রিটজ ল্যাং-এর 'দ্য টেস্টামেন্ট অব ডক্টর মাবুসে' ছবিটি তার বিখ্যাত 'দ্য ডার্ক নাইট' সিনেমার 'জোকার' চরিত্রটি তৈরিতে দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। অন্যদিকে, ডেভিড লিঞ্চের 'লস্ট হাইওয়ে' প্রথমে তার কাছে দুর্বোধ্য মনে হলেও এটি তার অবচেতন মনে স্বপ্নের মতো স্থায়ী প্রভাব ফেলেছিল বলে তিনি অকপটে স্বীকার করেন। এছাড়া স্পাইক লি-র 'ম্যালকম এক্স' ৭০ মিমি পর্দায় দেখার স্মৃতির কথাও তিনি রোমন্থন করেন।
আইম্যাক্স ক্যামেরা, পারমাণবিক বিস্ফোরণ কিংবা সময়কে জড়িয়ে ফেলা জটিল গল্পের পেছনে ছোটা নোলান যে আড়ালে গভীর আবেগ ও ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রের প্রতি প্রকৃত অনুরাগী, তা এই তালিকা থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়। গ্রামীণ বাংলার এক কিশোরের গল্পকে বিখ্যাত সব হলিউড ও আন্তর্জাতিক মাস্টারপিসের পাশে স্থান দিয়ে নোলান কেবল 'পথের পাঁচালী'র প্রতি সম্মানই জানাননি, বরং বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় অর্জনকেও নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিলেন।