ভারতের ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে রেজওয়ানা চৌধুরী 

ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ পাচ্ছেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। দেশটির প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেছে। এতে বাংলাদেশ থেকে আছেন বন্যা।

দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ভারতরত্ন। এরপর রয়েছে পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর ভারত সরকার ১৩২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে পদ্ম সম্মাননার জন্য মনোনীত করেছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন পদ্মবিভূষণ, ১৭ জন পদ্মভূষণ আর ১১০ জন পদ্মশ্রী সম্মাননা পাচ্ছেন।

সংগীতে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার পড়াশোনা বিস্তর। তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত ছাড়াও ধ্রুপদী, টপ্পা ও কীর্তন গানের ওপর শিক্ষা লাভ করেছেন। প্রাথমিক অবস্থায় বন্যা ‘ছায়ানট’ ও পরে ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা সংগীতচর্চায় শান্তিদেব ঘোষ, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নীলিমা সেন এবং আশীষ বন্দ্যোপাধায়ের মতো সংগীতজ্ঞদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংগঠনিকভাবেও তিনি বেশ বিচক্ষণ। তার তৈরি সুরের ধারা দেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংগীতশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই সংগীতশিল্পী বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপকভাবে সমাদৃত।

এ পর্যন্ত বহু অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে বন্যার। এর মধ্যে রয়েছে—‘স্বপ্নের আবেশে’, ‘সকাল সাঁঝে’, ‘ভোরের আকাশে’, ‘লাগুক হাওয়া’, ‘আপন পানে চাহি’, ‘প্রাণ খোলা গান’, ‘এলাম নতুন দেশে’, ‘মাটির ডাক’, ‘গেঁথেছিনু অঞ্জলি’, ‘মোর দরদিয়া’, ‘শ্রাবণ তুমি’ ও ‘ছিন্নপত্র’ ইত্যাদি।

সংগীতে অসামান্য অবদান রাখায় ২০১৬ সালে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা লাভ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পদক।