হাসপাতাল শয্যায় স্যান্ডউইচ খাওয়ার বায়না কবীর সুমনের, কেমন আছেন গায়ক?

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এপার-ওপার দুই বাংলার প্রখ্যাত গায়ক কবীর সুমন। পরিস্থিতির এখন কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও তাঁর সংকট কাটেনি। এ অবস্থায় হাসপাতাল শয্যায় চিকেন স্যান্ডউইচ খাওয়ার বায়না ধরলেন পচাত্তর বয়সের ‌‘তরুণ’ এই  সংগীতশিল্পী। পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, ‘গানওয়ালা’র স্যান্ডউইচ খাওয়ার আবদার মঞ্জুর করেছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

হাসপাতাল সূত্রে খবর, রাতে সুমনকে খাবার দেওয়া হলে তিনি চিকেন স্যান্ডউইচ ছাড়া অন্য কিছু খেতে চাননি। তারপর স্যান্ডউইচ এনে তাঁকে খাওয়ানো হয়।

জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা রোগশোক পেয়ে বসেছে সুমনকে। ফুসফুসে জটিলতা রয়েছে তাঁর। হৃদযন্ত্রেও একাধিক সমস্যা ধরা পড়েছে। তাঁর রক্তে শর্করার পরিমাণও অনিয়ন্ত্রিত। উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যাও রয়েছে। এখনও অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে গায়ককে। শিল্পীর চিকিৎসায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)-এর চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ৩টা নাগাদ সুমনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপার স্পেশ্যালিটি ব্লকে চলছে তাঁর চিকিৎসা। হাসপাতালে ভর্তির সময়ে বুকে সংক্রমণ, শ্বাসকষ্টসহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় কাবু ছিলেন শিল্পী। মেডিসিন ও হৃদরোগ (কার্ডিয়োলজি) বিভাগের চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন। সোমবার বিকেলেই জানা গিয়েছিল—স্থিতিশীল রয়েছেন এই গায়ক, গীতিকার ও সুরকার। যে অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল, তার চেয়ে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

শারীরিক পরিস্থিতির খবর জানিয়ে গতকাল বিকালেই ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন সুমন। লেখেন, ‌‘শ্বাসকষ্ট নিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছি। শিগগিরি সেরে উঠব। চিন্তা করবেন না।’

প্রসঙ্গত, এখনও সংগীতের নদীতে সুর-স্রোতের মতো বহমান কবীর সুমন। বর্তমানে বাংলা খেয়াল নিয়ে কাজ করছেন তিনি। ক’দিন আগে এ বিষয়ক একটি কর্মশালা করাতে বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি। একটা সময় প্রত্যক্ষ রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন সুমন। তৃণমূলের হয়ে যাদবপুর থেকে লোকসভার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তিনি। যদিও পরবর্তীতে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছিল। পরে তা মিটেও যায়। এরপর অবশ্য আর কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হননি। এখন নিজেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সমর্থক’ বলে থাকেন সুমন।