বীরউত্তম আনোয়ার হোসেনকে উৎসর্গ করে প্রীতমের গান

কয়েক দিন আগে সামাজিকমাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান। ছবিতে তাঁকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঝখানে গান গাইতে দেখা যায়। ছবিটি প্রকাশের পরই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়, আসছে কি বিশেষ কিছু? সেই কৌতূহল আরও বাড়ে, যখন প্রীতম সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরা একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে লেখা ছিল রহস্যময় সংখ্যা ১৫.০১.২৬।

অবশেষে গতকাল মিলেছে সেই রহস্যের উত্তর। প্রকাশ পেয়েছে নতুন গান ‘প্রহরী’। তবে এটি শুধু একটি গান নয়; এর পেছনে রয়েছে একটি মহৎ পটভূমি।

মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধে শহীদ হওয়া সামরিক কর্মকর্তা বীরউত্তম লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গানটি প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল রাত ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রহরী মুক্তি পায়। একজন অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের গল্প নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এর মূল উদ্দেশ্য।

বীরউত্তম লেফটেন্যান্ট আনোয়ার হোসেন ছিলেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন সাহসী অফিসার। মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। তাঁকে স্মরণ করেই গানটি নির্মাণ করা হয়েছে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রাষ্ট্র লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করে। ঢাকার সেনানিবাসে অবস্থিত শহীদ বীরউত্তম লেফটেন্যান্ট আনোয়ার গার্লস কলেজ তাঁর স্মৃতির বহমান প্রতীক।

প্রহরী গানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি সংগীত করেছেন প্রীতম হাসান। কথা লিখেছেন রাসেল মাহমুদ। ভিডিও নির্মাণ করেছেন মানজুর অনিক।

প্রীতম হাসান জানান, প্রজেক্টটি নিয়ে আলোচনা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। সম্ভবত ডিসেম্বর থেকেই কথা শুরু হয়। সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তখন বাস্তবায়ন করা যায়নি। পরে ধারণাটিকে ঘিরে অর্থবহ কিছু করার চেষ্টা করা হয়। অবশেষে গতকাল গানটি প্রকাশ পায়।

তিনি আরও জানান, গানটিতে এমন কিছু করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা আগে করা হয়নি। ফলাফল নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যারা হলিউড বা ভিন্নধর্মী সংগীতের দিকে বেশি ঝোঁকে, তাদের জন্য এটি ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা হবে।