বেগম রোকেয়া হোসেনের বিখ্যাত গল্প অবলম্বনে নির্মিত অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘সুলতানা’স ড্রিম’ নির্মাণের প্রায় আড়াই বছর পর আজ বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছে। স্টার সিনেপ্লেক্সের ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাঁচটি শাখায় সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন মোট ১৮টি শো চলবে।
১৯০৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ (বর্তমান চেন্নাই) থেকে প্রকাশিত দ্য ইন্ডিয়ান লেডিস ম্যাগাজিন-এ প্রথম প্রকাশিত হয় সুলতানা’স ড্রিম। পরে লেখিকা নিজেই এটি বাংলায় অনুবাদ করেন ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নামে। দীর্ঘ একশ’ বছরের বেশি সময় পর ২০১২ সালে নয়াদিল্লির একটি আর্ট গ্যালারিতে গল্পটির একটি কপি চোখে পড়ে স্প্যানিশ চলচ্চিত্রকার ইসাবেল এর্গেরার। তখনই তাঁর মনে হয়, এই গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ জরুরি।
এর ফলেই তৈরি হয় অ্যানিমেটেড ছবি ‘এল সুয়েনো দে লা সুলতানা’। ছবির গল্পে দেখা যায়, ভারতের আহমেদাবাদের একটি গ্রন্থাগারে তরুণ শিল্পী ইনেসের হাতে আসে সুলতানা’স ড্রিম। যেখানে নারীরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করে, জ্ঞানচর্চা করে; আর পুরুষরা থাকে ঘরের আড়ালে। গল্পে মুগ্ধ হয়ে ইনেস লেডিল্যান্ডের খোঁজে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ান এবং বেগম রোকেয়ার চিন্তা ও জীবনের চিহ্ন অনুসরণ করার চেষ্টা করেন।
ছবিটির প্রিমিয়ার হয় ২০২৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, স্পেনের সান সেবাস্তিয়ান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। একই বছরের ১৭ নভেম্বর স্পেনের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এটি। ভারত, সুইডেন, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ডসহ ১৫টির বেশি দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে সিনেমাটি।
বহুভাষিক এই সিনেমায় বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, ইতালিয়ান ও স্প্যানিশ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে কলকাতার সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের লেখা একটি গান রয়েছে। সংগীতায়োজন করেছেন তাজদির জুনায়েদ, কণ্ঠ দিয়েছেন দীপান্বিতা আচার্য। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে স্পেন ও জার্মানির পাঁচটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
এদিকে, আজই দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে আহমেদ হাসান সানির প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’। সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত সানি তাঁর ‘শহরের দুইটা গান’, ‘হয়তো আমরা’, ‘মানুষ কেন এ রকম’, ‘কেমনে কী’ গানগুলোর মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পান। ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সং ফ্রম দ্য সাউথ’ নির্বাচিত হয়।
নতুন সিনেমার নাম প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, ‘রাজনৈতিক আলাপকে আমরা নিষিদ্ধ বিষয় বানিয়ে ফেলেছি। সেই ট্যাবু ভাঙতেই এই নাম। গল্পের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাস নিয়ে কথোপকথনের চেষ্টা করেছি।’
সিনেমায় প্রবাসী বাংলাদেশি নূর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আজাদ আবুল কালাম, তানভীর অপূর্ব, এ কে আজাদ সেতু ও কেয়া আলম। সিনেমাটির গল্প, চিত্রনাট্য ও প্রযোজনা করেছেন খালিদ মাহমুদ।
নির্মাতা জানান, আজ বিকেলে স্টার সিনেপ্লেক্স বসুন্ধরা শপিং মল শাখায় আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাঁচ শাখায় সিনেমাটির প্রতিদিন ১৪টি শো চলবে।
এ ছাড়া অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমা ‘রুহের কাফেলা’ নির্মাণের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন আহমেদ হাসান সানি। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।


কঠিন সময়ের মধ্যদিয়ে গেছি, অনেক কিছু সহ্য করেছি: রাফসানের সাবেক স্ত্রী
