সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন, তারকাদের বাদ পড়ার নেপথ্যে কী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন বেশ ক’জন তারকা। সেই তালিকায় ছিলেন রিনা খান, কনকচাঁপা, বেবী নাজনীন, দিলরুবা খান, রিজিয়া পারভীন, দিঠি আনোয়ার, রুকাইয়া জাহান চমক, ফারহানা চৌধুরী বেবী প্রমুখ। তবে আজ ঘোষিত চূড়ান্ত মনোনয়নে ছিটকে পড়লেন বিনোদন অঙ্গনের এই তারকরা।

অতীতে জাতীয় সংসদে এক বা ততোধিক তারকা মুখের দেখা মিললেও, এবার কেন তার ব্যতিক্রম হলো—সামাজিকমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে এখন চলছে এই আলোচনা। মনোনয়ন-বঞ্চিত তারকারাও এ বিষয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। 

সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর) থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। যদিও তিনি মনোনয়ন পাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে এ বিষয়ে তিনি লেখেন, ‌‘জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমি আলহামদুলিল্লাহ বলি। সবই আল্লাহর ফায়সালা। সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য যুদ্ধ করলাম। তখনও নমিনেশন না পেয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলেছি নির্দ্বিধায়।’ 

যোগ করে তিনি লিখেছেন, ‘গ্রামের মানুষের প্রবল চাহিদার জন্য আবারও গেলাম সংরক্ষিত আসনের এই প্রক্রিয়ায়। সেখানেও তারা আমাকে মূল্যায়ন করল না। তবুও বলি আলহামদুলিল্লাহ। নিশ্চয়ই আল্লাহ এর মধ্যে মঙ্গল রেখেছেন। জীবন তো এখানেই শেষ হয়ে গেল না।’

শুভাকাঙ্ক্ষীরা অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তাঁর পাশে থাকবেন—এই প্রত্যাশা রেখে কনকচাঁপা বলেন, ‘আপনারা যেভাবে আমার সাথে ছিলেন, আশা করি সেভাবেই থাকবেন। আমি নিতান্তই সাদামাটা মানুষ। দল হয়তো ভেবেছে আমি ভাতের মাড় টাইপ মানুষ! কিন্তু আমি জানি এই দেশ আমার, গান ছাড়াও এ দেশকে দেওয়ার অনেক কিছু বাকি আছে। ইনশাআল্লাহ আমি আছি দেশের হয়ে, দশের হয়ে। আর কিছু যদি না-ও পারি মরে গিয়ে মাটিতে মিশে মাটি উর্বর করতে পারব নিশ্চয়ই। আমার জন্য দোয়া করবেন।’

কুষ্টিয়া থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। সুখবরের আশায় বুক বেঁধেছিলেন তাঁর অনুরাগীরা, দিনশেষে যদিও তিনি মনোনয়ন পাননি। এরপর সামাজিকমাধ্যমের এক পোস্টে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান অভিনেত্রী। শুরুতেই তিনি তাঁর ওই আসনে মনোনয়নপ্রাপ্ত ফরিদা ইয়াসমিনকে অভিনন্দন জানান।

রিনা খান। ছবি: সংগৃহীত

সেই পোস্টে চমক লিখেছেন, ‘আমি রাজনীতিতে একেবারেই নতুন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমার রাজনীতির পথচলা শুরু। দল থেকে যে অসামান্য সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। আমার মূল লক্ষ্য দেশ ও দশের সেবা করা। আমি কুষ্টিয়ার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই এবং আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চাই। আমার রাজনীতির এই নতুন পথচলায় আপনাদের সকলের দোয়া ও ভালোবাসা প্রত্যাশা করছি।’

কিশোরগঞ্জ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র নিয়েছিলেন কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীন। ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলের অন্যান্য সিনিয়র নেতারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁদের সিদ্ধান্তকে আমি সবসময় সম্মান জানাই। সবসময়ই তাঁদের ওপর আস্থা রেখে এসেছি। আশা করছি, দল আমাকে সামানের দিনগুলোতে মূল্যায়ন করবে।’

নেটিজেনদের কারও কারও মতে, বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যাঁরা সক্রিয় ছিলেন, রাজপথে যাঁরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন—সেইসব ত্যাগী ও নির্যাতিত নেত্রীদেরই এবার মনোনয়নে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে বিএনপি। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে তারকা শিল্পীদের মনোনয়ন না দিয়ে বিএনপি মূলত একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে চেয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, এতে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনকে রাজনীতিকীকরণের বাইরে রাখার একটা চেষ্টা প্রতিফলিত হয় দলটির। 

এদিকে, বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে কেন এবার বিনোদন অঙ্গনের তারকারা নেই—এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে বলেন, ‘রাজনীতি করার মুখ্য উদ্দেশ্য তো শুধু এমপি (সংসদ সদস্য) হওয়া নয়, দলের আরও অনেক কর্মকাণ্ড রয়েছে—সেখানে অবশ্যই তারকাদের মূল্যায়িত করবে বিএনপি। যাঁরা মনোনয়ন পাননি, তাঁরা দলের অন্যান্য কর্মকাণ্ডে নিশ্চয়ই মূল্যায়িত হবেন।’

প্রসঙ্গত, আজ সোমবার সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। আগামী ১২ মে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত হবে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন, যেখানে সাধারণ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ভোট প্রয়োগ করবেন।