ইতালির সেই ‘হোটেলকাণ্ডে’ এবার মুখ খুললেন জেমস

ইতালির রোমে একটি কনসার্টে পারফর্ম করতে গিয়ে ‘হোটেলকাণ্ডে’ সমালোচনার মুখে পড়েছেন ‘নগর বাউল’খ্যাত জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। তাঁদের বিরুদ্ধে হোটেল রুম নোংরা ও অগোছালো রেখেই বের হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এবার এই বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশি এই রকস্টার। 

সামাজিকমাধ্যমে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একজন আয়োজক প্রতিনিধির কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে হোটেল কর্তৃপক্ষ দাবি করে যে, রুম নোংরা রেখেই হোটেল ছেড়েছেন জেমস ও তাঁর টিম। ফলে চূড়ান্ত পরিচ্ছন্নতার জন্য তাঁদেরকে ন্যূনতম ২০০ ইউরো পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে সেই হোটেলে তাঁরা আর বুকিং পাবেন না। একইসঙ্গে গায়কের ম্যানেজার রুবাইয়াৎ ঠাকুরের বিরুদ্ধে শিষ্টাচার বহির্ভূতভাবে ক্যাশ হাত দেওয়ারও অভিযোগ তোলেন একজন আয়োজক প্রতিনিধি। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল থেকেই সামাজিকমাধ্যমে আলোচনায় রয়েছে এই ঘটনা।

ইতালির ভেনিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে জেমস বলেন, ‘অভিযোগটি ৫৪৯ নম্বর রুম সংশ্লিষ্ট। রুমটিতে আমাদের একজন অতিথি গিটারিস্ট ছিলেন। ইয়াং ছেলে। নিয়ম কিন্তু সবসময় হোটেল থেকে ক্লিনিং করা। ইয়াং ছেলে, তারা হয়তো পরিষ্কার করেনি। কিন্তু এটি এমন কোনো বড় বিষয় নয়। হোটেলে অনেক সময় এমন ঘটনা ঘটে থাকে। প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হয়, তারা হয়তো সেটি করেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই অনেকভাবে এলোমেলো রাখে রুম। যদি হোটেল কর্তৃপক্ষ সত্যিই ২০০ ইউরো জরিমানা করে থাকে, তাহলে এটা এমন কি বড় ফাইন (জরিমানা)? এমনও দেখা যায়, কেউ কেউ রুমে ধূমপান করে ১০০/২০০ ইউরো জরিমানা দেয়। একেক দেশে একেক নিয়ম, এটি এমন বড় কোনো বিষয় নয়।’

এদিকে, নিয়ম না মেনে বা রিসিপশনে কোনোপ্রকার যোগাযোগ না করেই হোটেল ছাড়ার বিষয়ে গায়কের ম্যানেজার রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন বলেন, ‘হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় তো তারা (হোটেল কর্তৃপক্ষ) দেখেছেন, সব তো হোটেলে আছে। তারা তো আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ দেয়নি। কিন্তু আমরা যখন হোটেল থেকে ভেনিসে চলে এসেছি, তখন তারা (আয়োজক কর্তৃপক্ষ) এসব অভিযোগ করছে। আমরা চলে আসার পর অভিযোগ করলে কীভাবে জবাব দেব।’

এ ছাড়া সামাজিকমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন কিনা—এমনটা জানতে চাইলে জেমস বলেন, ‘এটা নিয়ে এত বড় কোনো ইস্যু করার দরকারই নেই। তারা করতেছে করুক, করুক না। ফোন আছে, দুই-চারটা কথা লিখতেছে, লিখুক। বাধা দেয়ার কিছু নেই। তারা মন খুলে লিখুক, স্বাধীনতা আছে।’

এর আগে এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে ম্যানেজার রবিন স্পষ্ট জানান, যে রুম নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, সেই রুমে জেমস ছিলেন-ই না। তাঁর দাবি, হোটেলের ৪টি রুমে ছিলেন তাঁরা। এর মধ্যে জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে এবং তিনি নিজে ছিলেন ২৪৬ নম্বর কক্ষে। হোটেল কর্তৃপক্ষ যে ৫৪৯ নম্বর কক্ষ নোংরা অবস্থায় পাওয়ার অভিযোগ করেছে, সেখানে অন্য একজন মিউজিশিয়ান ছিলেন। রবিনের ভাষ্য, ‘জেমস ওই কক্ষে ছিলেন না। তাই একজনের কক্ষের অবস্থার দায়ভার জেমসের ওপর বর্তায় না।’