আইয়ুব বাচ্চু রাত ১টা-দেড়টার সময় এসে বলত কত কেক কেটেছে: চন্দনা

আজ আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন। সারাটা জীবন তাকে নিয়ে কাটালাম। কত কত স্মৃতি! তবে আগে যখন বাচ্চারা ছোট ছিল, তার জন্মদিনগুলো বাসাতে হতো। বাচ্চারা ছোট একটা কেক এনে রাখত আর ঘড়িতে দেখত কখনও বারোটা বাজবে? আইয়ুব বাচ্চু বুঝতে পারতো কিছু একটা ঘটতে চলেছে, তবে কী সেটা—তা জানত না। বাচ্চারা সারপ্রাইজ দিত। আমরা সবাই মিলে কেক কাটতাম। 

আমাদের সাথে একা কাটানো বাচ্চুর জন্মদিনগুলোই ছিল বেশি মজার। পরে লোকজন অনেক বেশি আসতে লাগলো। তখন অফিসে কেক কাটা শুরু হলো। আইয়ুব বাচ্চু রাত ১টা-দেড়টার সময় এসে বলতো কত কেক কেটেছে! সে বাচ্চাদের কেকের জন্য অপেক্ষা করতো। আমরা খুব মজা করে কেক কাটতাম।

পরিবারের সঙ্গে কিংবদন্তি গায়ক ও গিটারিস্ট। ছবি সৌজন্য আইয়ুব বাচচু পরিবারগানই ছিল আইয়ুব বাচ্চুর ধ্যান-জ্ঞান। আর একটা জিনিস খুব ভালোবাসতেন। সেটা হলো গিটার। গিটারগুলো অক্ষতই আছে। অনেকে নানা কথা ছড়ান। তবে সবার আগে এগুলো আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতি। 

আমার জীবনের চেয়ে বেশি যত্ন করে এগুলো রেখেছি। এই গিটারগুলো নিয়ে আমার স্বপ্ন আছে। সেই স্বপ্নের বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না। গিটারগুলো থেকে দুটি গিটার ছেলেকে দিয়েছিল আইয়ুব বাচ্চু। বাকিগুলো ঠিকঠাক আছে। আমি যতদিন জীবিত আছি ততদিন যত্নে থাকবে এবং চলে গেলে ছেলেমেয়েরা দেখবে হয়তো।

বলা যায়, আমি একটা সমুদ্রে নেমেছি। জানি না এ সমুদ্র কবে পাড়ি দিতে পারবো। অনেক আগেই বলেছি আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতি নিয়ে বিশেষ কিছু করার। সেটা যখন শেষ হবে, তখন আমি একটু জিরাতে যাব। জন্মদিনে সবাই আইয়ুব বাচ্চুর জন্য দোয়া করবেন।