অভিনেতা সেন্টুর বাসায় ডাকাতির অভিযোগ

রাজধানীর রামপুরায় তরুণ অভিনেতা আব্দুল্লাহ আল সেন্টুর বাসায় দরজার তালা ভেঙ্গে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুটিং থেকে ফিরে তিনি দেখেন বাসার তালা ভেঙে কে বা কারা যেন সিনেমার ব্লুপ্রিন্টসহ অনেক কিছু নিয়ে গেছে। জিনিসপত্র তছনছ করা সেই বাসায় ফিরে একটি রাজনৈতিক দলের ‘ব্যানার’ দেখতে পান অভিনেতা। তাঁর অভিযোগ, সেই দলটির সঙ্গে সম্পৃক্তরাই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন! 

ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেন্টু। তিনি জানান, গত ২৫ জানুয়ারি শুটিংয়ে অংশ নিতে মানিকগঞ্জে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ৩০ জানুয়ারি দিবাগত রাতে বাসায় ফিরে এই দুর্ঘটনা দেখতে পান।  

ইতিমধ্যে এ ডাকাতির ঘটনায় রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সেন্টু। যেখানে তিনি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সিনেমার ফুটেজসহ হার্ডড্রাইভ, ক্রেস্ট, মোবাইল ফোন, সিলিং ফ্যানসহ ঘরের বেশকিছু ব্যবহার্য ও মূল্যবান দ্রব্যাদি লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। 

থানায় লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, ‘আমি আমার বর্তমান ঠিকানায় জানুয়ারি/২৬ মাস থেকে ১১,০০০/-টাকা ভাড়া ধার্য্য করে জানুয়ারি/২৬ মাসের ভাড়া পরিশোধ করি এবং ১১,০০০/-টাকা অগ্রিম সিকিউরিটি প্রদান করে বসবাস করে আসছি। ইং ২৫/০১/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৫.৩০ ঘটিকার সময় আমি মানিকগঞ্জ শুটে চলে যাই। ইং ৩০/০১/২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ ৩১/০১/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ০২.৩০ ঘটিকার সময় বাসায় আসি।’ 

লিখিত ওই অভিযোগে সেন্টু আরও উল্লেখ করেন, ‘তখন নিচ তলায় দারোয়ান আমাকে নিয়ে বাসায় গিয়ে তালা খুলে দিয়ে আসে এবং তালা নিয়ে আসে। তখন আমি বাসায় প্রবেশ করে দেখি আমার বাসার ভেতরে থাকা আমার একটি ২ টেরাবাইট হার্ডড্রাইভ নিয়েছে যেটাতে আমার একটা সিনেমার ফাইনাল ফুটেজ রাখা। সে সিনেমা বানাতে আমাদের খরচ হয়েছে ৫০ লক্ষ টাকা, সেই সাথে নিয়েছে ভিবো মোবাইল, মূল্য অনুমান ২৬,০০০/-টাকা, সিলিং ফ্যান, মূল্য অনুমান ৩,০০০/-টাকা, গ্যাসের কার্ড, আমার চ্যানেল আই ডিজিটাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড এর বেস্ট রাইজিং স্টার এর ক্রেস্ট ও কিছু কাপড়, আয়রন ও জুতা নাই।’ 

থানায় জিডি করেছেন সেন্টু। ছবি: সংগৃহীত

এরপর উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তখন দারোয়ান আমাকে বিস্তারিত বলে যে গত ইং ২৫/০১/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৭.৩০ ঘটিকার পর অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন লোক ঢুকে তালা ভেঙে জিনিস নিয়ে গেছে। ভেঙে জিনিস নেওয়ার পর আমি আসার আগেই পুলিশ এসে ভিডিও করে নিয়ে গেছে বাসার সকল কিছু। আমি পরে যার কাছ থেকে বাসা নিয়েছি তার কাছে যাওয়ার পর সে অস্বীকার করে সে আমাকে ভাড়া দেয়নি এবং আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে আর আমাকে মারতে আসে। এবং সে বাসায় জিনিস পত্র নেওয়ার পরে বাসায় নাহিদ ইসলামের (এনসিপি আহ্বায়ক) ছবি সম্বলিত এনসিপির ব্যানার বাসায় রেখে যায়।’

সবশেষে ঘটনার দিন-তারিখ উল্লেখ করে বলা হয়, ‘গত ইং ২৫/১২/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৭.৩০ ঘটিকার সময় ১নং ও ২নং বিবাদীদ্বয়ের যোগসাজসে অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন ডাকাত আমার বাসার তালা ভেঙ্গে প্রবেশ করে আমার বাসার বর্ণিত মালামালগুলো ডাকাতি করে নিয়ে যায়। উক্ত বিষয় নিয়ে আমার পরিবারের লোকজনের সাথে আলোচনা করে থানায় এসে এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হলো।’