‘নির্বাচনে নিজের পোস্টার ছেপেছি কিন্তু কোথাও লাগাইনি’

রাত পোহালেই (৭ জানুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অন্যান্যবারের তুলনায় এবার বিনোদন অঙ্গনের তারকাদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। নির্বাচন ও জয় নিয়ে কী ভাবনা? তাঁদের ভাবনার বুননগুলো তুলে ধরার জন্য আমাদের এ আয়োজন। এখানে থাকছে ‘মীরাক্কেল’খ্যাত তারকা কমর উদ্দিন আরমানের বক্তব্য। তিনি কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) থেকে কলার ছড়ি মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন—

স্ট্যান্ডআপ কমেডির মঞ্চ থেকে সোজা রাজনীতির মাঠে নেমেছেন কমর উদ্দিন আরমান। প্রত্যক্ষভাবে কোনো দলের না হয়ে নির্দলীয় প্রার্থী কেন হয়েছেন, সেই ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে তিনি বললেন, ‘সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কিছু মানুষ আমাকে পছন্দ করেন, ভালোবাসেন। নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি, বিষয়টি তাঁরা ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন। বলতে পারেন, প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষ বিকল্প বা আমাকে কতটা গ্রহণ করেন, সেটার একটা পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণ এই নির্বাচন। এটা একটা শুরুও ধরতে পারেন। কোনো না কোনো সময়, কাউকে না কাউকে শুরুটা করতে হয়।’ 

এবারের নির্বাচনে শোবিজের আরও অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন। তাঁরা দলীয়ভাবে প্রার্থী হয়েছেন। শুরুটা তো এভাবেও হতে পারতো এই স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ানের, কিন্তু স্বতন্ত্র কেন?

আরমান বললেন, ‌‘এমনিতে আমাদের বিনোদন অঙ্গনের সবাই কোনো না কোনো দল থেকে প্রার্থী হয়েছেন, সেই জায়গা থেকে আমি একটু নির্দলীয়ভাবে চিন্তা করেছি। এখন কতটুকু সফল হতে পারি, সেটা সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। পাশাপাশি আমি এ-ও চিন্তা করেছি, এমপি হতে পারব কি পারব না—সেটা তো বড় কথা নয়; আমার এলাকায় প্রায় ৪ লাখ ৮৪ হাজার ভোটার। তার মধ্যে এক লাখের কাছাকাছি তরুণ বা নতুন ভোটার। এই তরুণ ভোটারদের নিয়েই মূলত আমার নির্বাচন।’

আরমান জানালেন, নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার তৈরি করলেও এসবের কিছুই তিনি টাঙাননি। কারণ হিসেবে তাঁর ভাষ্য, ‘আমার কিছু চিন্তা রয়েছে। আমি মনে করি, এই তরুণ ভোটারদের পোস্টার দেখার সময় নেই আরকী! তাঁরা সবসময় ফোনের ভেতরেই থাকে! ইউটিউব, ফেসবুকিং—এভাবেই সময় কাটে। যে কারণে চিন্তা করলাম, প্রচার-প্রচারণাও তাহলে ডিজিটালভাবে করি। তাই পোস্টার-প্যানা না করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেই প্রচারণা চালিয়েছি। অন্যদের কাছেও যে যাচ্ছি না,  তা নয়। অন্যদের কাছেও যাচ্ছি, তবে ওই এক লাখই আমার লক্ষ্য।’

সংসদ সদস্য হলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আরমান। ইশতেহার কী—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‌‘তরুণদের নিয়েই কাজ করব। যেমন, আমাদের এলাকায় কিংবা সারাদেশে যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে, তারা কিন্তু কারও কাছ থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পায় না। সরকার থেকেও পায় না। আমি স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য একটা পরিষদ গঠন করব, তারা যেন নির্বিগ্নে সব ধরনের মানুষকে সহযোগিতা করতে পারে। এবং ওই টিমকে নিয়েই মানুষের উপকারে কাজ করব। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তাদের সঙ্গে আমিও থাকব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার আরেকটা ইচ্ছা রয়েছে, এলাকার মানুষের জন্য প্রতি বছর একটা সময় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ ঘোষণা করব। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রীসহ দেশের অনেক বড় বড় সেলিব্রিটিরা সেখানে আসবেন। সারা বছর আমার এলাকার বাচ্চারা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা করবে। এর ফলে ধীরে ধীরে এলাকা থেকে অপরাধপ্রবণতা কমে যাবে। মাদক থাকবে না বলে আমার বিশ্বাস। আমাদের সেই পুরনো বাংলাদেশের চিত্র আবারও ফিরে আসবে।’