‘চলেই গেলি সীমানা!’

স্ট্রোক করেছিলেন অভিনেত্রী-মডেল রিশতা লাবনী সীমানা। সেই যে অচেতন হলেন তিনি, আর জ্ঞান ফিরল না। হাসপাতালে ১৪ দিনের লড়াই শেষে থেমে গেল জীবনের স্রোত। প্রয়াত হলেন অভিনেত্রী। তাঁর মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনে বিরাজ করছে শোকের ছায়া। স্মৃতির ঝাঁপি খুলে দিয়ে শোক প্রকাশ করছেন সহকর্মীরা।

অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী লিখেছেন, ‘‌সীমানা, জীবনের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে গেলি মৃত্যুর সীমানায়! অনন্তলোকে তুই চিরশান্তিতে থাকিস। তোর জন্য রইল গভীর শোক। সাকিন সারিসুরি, কলেজ টুডেন… কত কত স্মৃতি!’

অভিনেত্রী বন্যা মির্জা লিখেছেন, ‘চলেই গেলি সীমানা! তুই এতো নিশ্চুপ থেকেছিলি সবসময়! চলেও গেলি নীরবে।’ 

রুনা খান লিখেছেন, ‘‘২০১২-১৩’তে একটা সিরিজ করতে গিয়ে তোর সাথে প্রথম পরিচয়। একটামাত্রই কাজ হয়েছিল আমাদের একসাথে। তারপর তোর বিয়ে সন্তানদের জন্ম। আমি নিজে সিরিজে কাজ করা বন্ধই করে দিই প্রায়। যোগাযোগ দেখা কিছুই ছিল না তোর সাথে। ২১-এর ডিসেম্বরে হঠাৎ তোর টেক্সট-কল। আপু আমার ছোট-ভাইয়ের বিয়ে তোমাকে আসতেই হবে! কেন-কী ভেবে অমন পাগল হয়েছিলি ভাইয়ের বিয়েতে আমাকে নেবার জন্য কে জানে। সবগুলো আয়োজনে যেতে না পারলেও, জানুয়ারিতে তোর ভাইয়ের বৌভাতে গিয়েছিলাম। তোর এত ভালোবাসার নিমন্ত্রণ উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না আমার পক্ষে। ২২-এর ২ জানুয়ারি তোকে দেখলাম প্রায় ৯-১০ বছর পর, তোর ছেলে দুটোকে দেখলাম। নিজে পাশে দাঁড়িয়ে থেকে দেখলি আমি খাচ্ছি কিনা ঠিকমতন! মাত্র ২ বছর আগে! আমি কি জানতাম ওটাই তোর সাথে আমার শেষ দেখা? সেজন্যই কি অমন করে ছোট্ট ছেলেকে কোলে নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থেকে শেষবার খাওয়ালি। আমরা কিছুই জানি না—কোনটা শেষ দেখা, শেষ কথা... কিচ্ছু জানি না! সীমানা, তোর আত্মার শান্তি হোক বাবু... আদর।’’

সীমানার সঙ্গে এ ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন গোলাম ফরিদা ছন্দা

গোলাম ফরিদা ছন্দা লিখেছেন, ‘সীমানা, জীবন বড়ই বিচিত্র কিন্তু মৃত্যু রঙহীন একরকম। তোকে এই পৃথিবীর আর কোনো কিছুই তার সীমানায় আবদ্ধ করতে পারলো নারে, সব সীমানা পেরিয়ে তুই পাড়ি দিলি অনন্তলোকের অজানা সীমানায়। ভালো থাকিস বোন, চির শান্তিতে থাকিস। রেখে গেলি বাচ্চা দুটো, ওদেরকে ওপার থেকে দেখে রাখিস।’

শাহনাজ খুশি লিখেছেন, ‌‘প্রতিদিন সকালে উঠেই, আগে নিউজ স্ক্রল করে দেখি, তোর কোনো ভালো খবর আছে নাকি। আজও তাই করতে যেয়ে, তোর এ খবর পেলাম! তোর সাথেকার সব স্মৃতি দুই চোখে ভীড় করছে, তোর বাচ্চা দুইটা। সব যন্ত্রণার অবসান হলো আজ। শান্তিতে ঘুমা!’

নাটকের দৃশ্যে সীমানা ও শাহনাজ খুশি। ছবিটি ফেসবুক থেকে নেওয়া

সীমানা অভিনীত ‘গুলশান এভিনিউ’ নাটকের ৫০০তম পর্ব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের কিছু ছবি শেয়ার করে অভিনেতা সতীর্থ রহমান লিখেছেন, ‘সীমানা, বিন্দুমাত্র ভনিতা নেই। সত্যি সত্যিই খুব কষ্ট পাচ্ছি। এবং এর রেশ থেকে যাবে বেশ কিছুদিন। মেনে নেয়া যায় না। তবুও মেনে নিতে হবে। এ কেমন প্রস্থান! মিডিয়ায় আমাকে স্বার্থহীনভাবে ভালোবাসতো এমন লোকের সংখ্যা নিতান্তই কম। তারাও ধীরে ধীরে চলে যেতে শুরু করেছে।  বুঝলাম যাবার সময় হলো বিহংগের। যেখানেই থাকো ভাল থাকো।’

অভিনেত্রী মনিরা মিঠু লিখেছেন, ‘আহারে সীমানা, আহারে নারীর জীবন। বাচ্চা দুটো মা হারা হয়ে সারাজীবন যুদ্ধ করবে।’

শামীমা তুষ্টি লিখেছেন, ‘ভালো থাকিস  সীমানা... চলেই গেলি!’

আরও শোক প্রকাশ করেছেন রওনক হাসান, সুষমা সরকার, জ্যোতিকা জ্যোতি, মুরাদ পারভেজ, সামিরা খান মাহি, মৌসুমী নাগ, মম মোর্শেদ প্রমুখ।