শিল্পকলায় পাল্টা ধাওয়ার মধ্যেই চলল নাটকের প্রদর্শনী

গত শুক্রবার একদল ব্যক্তির বিক্ষোভের মুখে দেশ নাটকের ‘নিত্যপূরাণ’ মঞ্চনাটকের প্রদর্শনী মাঝেই বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

সেটার প্রতিবাদে আজ (৮ নভেম্বর) শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সামনে সমাবেশ আয়োজন করে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। কিন্তু সেটা শেষ অবধি হাতাহাতির পর্যায়ে পৌছায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ একযোগে কাজ করে। অপরদিকে নাট্যকর্মীরা শিল্পকলার গেটে অবস্থান নিয়ে নাটক প্রদর্শনী চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘড়িতে তখন বিকেল পাঁচটা বাজে। গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সমাবেশও প্রায় শেষের দিকে। নাট্যকার ও অভিনেতা মামুনুর রশীদের বক্তব্য চলছিল। মামুনুর রশীদ বলছিলেন, ‘সমাজে যে বৈষম্য, সে বৈষম্যেরও একটা গভীরতর বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে এই নিত্যপূরাণ নাটক। যা–ই হোক, আপনারা এসেছেন...।’ এরপরই ‘ধর, ধর’ চিৎকারে চারদিকে শোরগোল শুরু হয়।

শিল্পকলার গেটের বাইরে যৌথবাহিনীর অবস্থান। ছবি: সংগৃহীতসে সময়ই সমাবেশের পেছনে অর্থাৎ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভবনের দিকে থেকে ডিম ছুড়ে মারা হয়। সমাবেশে অংশ নেওয়া নাট্যকর্মীরা চেয়ার ছেড়ে সেদিকে ছুটে যান। কয়েক মিনিটের হইচই শেষ হলে মামুনুর রশীদ তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাধারণ জনতা হিসেবে দাবি করে বেশ কিছু লোক এখানে এসে স্লোগান দিতে থাকে। এসময় নাট্যকর্মীরা সেখান থেকে সরে যান। সাধারণ জনতা বলেছেন, ‘নিত্যপূরাণ’ নাটক প্রদর্শনী তারা আর হতে দেবেন না।

তবে শিল্পকলা একাডেমির প্রবেশদ্বারের মুখে নাট্যকর্মীরা অবস্থান নেন। বক্তব্যে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘সভা শেষ করব না। ভেতরে নাটক হবে, বাইরে আমরা পাহারা দেব। এই দুষ্কৃতিকারীদের দেখে ছাড়ব।’

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাকী ইনাম, সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজিদ, দেশ নাটকের দলপ্রধান নাট্যকার মাসুম রেজা, অধ্যাপক মলয় ভৌমিক প্রমুখ।