চলছে আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় উৎসব

প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় উৎসব। আয়োজন করেছে তারুণ্যনির্ভর মূকাভিনয় সংগঠন ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন। 

শনিবার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই উৎসব চলবে আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত। যেখানে অংশ নিয়েছেন ডেনমার্ক, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও বাংলাদেশের একঝাঁক শিল্পী।

গতকাল বিকেল ৪টায় উৎসবের উদ্বোধন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ। 

সন্ধ্যার আয়োজনে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশনের মডারেটর ফাদার তপন ডি রোজারিওর লেখা মূকাভিনয় বিষয়ক বই ‌‘নৈশব্দের প্রতিধ্বনি: মাইমের শিল্পান্বেষণ’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটি ইংরেজি ও বাংলা দুই সংস্করণে লিখিত। 

উৎসবের উদ্বোধন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ। ছবি: ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন

এদিন ডেনমার্কের ডেনি ডেনিস, দক্ষিণ কোরিয়ার রজার কিম, বাংলাদেশের মিরর মাইম থিয়েটার, প্ল্যাটফর্ম ২৫ ও মাইম ফেইস পরিবেশনায় অংশ নেয়। দিনব্যাপী আয়োজনের শুরুটা হয় মূলত দুপুর ১২টায় ডেনি ডেনিসের ৩ ঘণ্টাব্যাপী কর্মশালার মধ্যদিয়ে। বিকেলজুড়ে ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পী পিকপিকের ক্লাউন মাইম, যা উৎসবের মাত্রাকে ভিন্ন পর্যায়ে নিয়ে যায়।

আজ এবং আগামীকালও একইভাবে থাকছে দিনব্যাপী আয়োজন। যেখানে পোস্টার প্রদর্শনী, কর্মশালা, সেমিনার, মুক্ত আলোচনা, মূকাভিনয় প্রদর্শনী উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশনের সভাপতি উবাইদুল্লাহ রিদওয়ান এবং সাধারণ সম্পাদক মুন্নার মতে, দেশ একটি ট্রানজিশনাল পিরিয়ড পাড় করছে, এর মধ্যেও সংগঠনটি উৎসবের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। 

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মীর লোকমান বলেন, ‘এই উৎসবটি বাংলাদেশের সাথে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক মজবুত করছে। সবাইকে আগামীর সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব তৈরির বার্তা দিচ্ছে এই উৎসব।’

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘না বলা কথাগুলো না বলেই হোক বলা’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন। এরইমধ্যে দেশ-বিদেশে ৮ শতাধিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে মূকনাট্যদলটি। আর্মেনিয়া, মরক্কো, ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় ও নাট্যোৎসবে অংশ নিয়েছে তারা।