জীবনকে উপভোগ করার সহজাত এক ক্ষমতা রয়েছে তাঁর ভেতর। কখনো রঙে, কখনো কবিতায়, কখনো অভিনয়ে—নানান শিল্পমাধ্যমে নিজেকে ছড়িয়ে দিয়ে জীবনকে ছুঁয়ে দেখেন আফজাল হোসেন। সেই বহুমাত্রিক জীবনের ৭১ বছরে পা রাখলেন তিনি।
এই বিশেষ উপলক্ষে চ্যানেল আই তার নিয়মিত আয়োজন ‘তারকাকথন’-কে পরিণত করেছে এক ব্যতিক্রমধর্মী জন্মোৎসবে। ১৯ জুলাই দুপুরে চ্যানেল আই স্টুডিওতে দেশের এই গুণীজনকে ঘিরে সাজে আনন্দঘন এক পরিবেশ। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব ত্রপা মজুমদার।
আফজাল হোসেনকে ঘিরে আয়োজিত এই আয়োজনে অংশ নেন তাঁর পরিবারের সদস্যসহ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের খ্যাতিমান ব্যক্তিরা—আবুল হায়াত, আফসানা মিমি, চঞ্চল চৌধুরী ও মডেল নোবেল। অনুষ্ঠানে উত্তরীয় পরিয়ে তাঁকে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) তুলে দেন প্রবীণ অভিনেতা আবুল হায়াত। এরপর কেক কাটার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা।
এই আনন্দঘন মুহূর্তে অতিথিরা স্মৃতিচারণায় জানান তাঁদের মুগ্ধতা। আফসানা মিমি বলেন, ‘আফজাল ভাই আমাদের কাছে ছিলেন হিরো। তাঁর সৌন্দর্যবোধ, নিষ্ঠা আর নির্মাণশৈলী আজও আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।’
ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হন আফজাল হোসেনের দীর্ঘদিনের বন্ধু অভিনেত্রী ও মডেল শম্পা রেজা। তিনি বলেন, ‘আমাদের বন্ধুত্বে কখনো কৃত্রিমতা ছিল না। আফজাল সব সময় ছিলেন একজন গম্ভীর, চিন্তাশীল, অথচ প্রাণবন্ত বন্ধু।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছিল তারকাদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার বন্যা। ছবি ও বার্তায় মুখর ছিল বিনোদন অঙ্গন।
১৯৫৪ সালের ১৯ জুলাই সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন আফজাল হোসেন। অভিনয়ে হাতেখড়ি ৭০-এর দশকে মঞ্চনাটকের মাধ্যমে। আশির দশকে টেলিভিশন নাটকে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং অল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন ঘরোয়া দর্শকের প্রিয় মুখ। সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে গড়া তাঁর জুটি সেই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় রসায়ন হয়ে ওঠে।
টিভি নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও রেখেছেন উজ্জ্বল উপস্থিতি—‘দুই জীবন’, ‘নতুন বউ’, ‘পালাবি কোথায়’-এর মতো ছবিতে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন নির্মাতা হিসেবেও তিনি প্রতিষ্ঠিত। তাঁর নির্মিত অনেক বিজ্ঞাপন আজও শিল্পশ্রেণির উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।
সাহিত্যচর্চাতেও সক্রিয় আফজাল হোসেন। কবিতার বই, চিত্রকর্ম, নাট্যনির্মাণ—সবখানেই আছে তাঁর সৃজনী ছোঁয়া। ২০২২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে।