মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ বিকৃতির অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি’র মহাপরিচালক টিম ডেভি ও বার্তাপ্রধান ডেবোরা টারনেস। এ ঘটনার পরই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সপ্তাহখানেক আগে, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর ‘ট্রাম্প: আ সেকেন্ড চান্স?’ শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র প্রচার করে বিবিসি। প্রায় ১ ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের এই তথ্যচিত্র ছিল সংবাদমাধ্যমটির প্যানোরমা বিভাগে নির্মিত ৭২তম সিজনের ৩৩তম পর্ব। এটি পরিচালনা করেন ম্যাথু হিল। পরবর্তী সময়ে তা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম অ্যাপল টিভি প্লাসেও মুক্তি পায়।
আইএমডিবি’র তথ্য বলছে, প্রচারিত হওয়ার প্রায় দুই বছর আগে থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েকজন অতি-উৎসাহী সমর্থককে অনুসরণ করে বিবিসি’র প্যানোরমা বিভাগ। যেখানে ট্রাম্পকে কেন তাঁরা দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে চান, সেই বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
কিন্তু সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ‘বিবিসি ডক্টরেড ট্রাম্প স্পিচ, ইন্টারনাল রিপোর্ট রিভিলস’, অর্থাৎ ‘ট্রাম্পের বক্তব্য কাটছাঁট করেছে বিবিসি, বের হলো থলের বেড়াল।’
ফাঁস হওয়া নথি যাচাই করে দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, ট্রাম্পের বক্তব্যের দুটি অংশ কেটে একসঙ্গে জুড়ে দিয়েছে বিবিসি। যেখানে তিনি তাঁর সমর্থকদের ক্যাপিটল হিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কথা বলছেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পরই বিবিসিকে নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠে।
দ্য টেলিগ্রাফের ওই সংবাদের এক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘দুর্নীতিবাজ সাংবাদিকরা’ প্রকাশ্যে এসেছে, যারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে চেয়েছিল।
অবশেষে রোববার (৯ নভেম্বর) বিতর্কের জেরে বিবিসি’র শীর্ষ দুই কর্মকর্তা—মহাপরিচালক টিম ডেভি ও বার্তাপ্রধান ডেবোরা টারনেস পদত্যাগ করেছেন। যদিও ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ নথিতে ট্রাম্পের ভাষণের ভুল উপস্থাপন ছাড়াও বিবিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব, ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুর মতো ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, বিবিসি, আইএমডিবি