‘নতুন কুঁড়ি’র সেরাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’। প্রায় দুই দশক পর এ বছর অনুষ্ঠানটি আবারও শুরু হয় এবং ইতিমধ্যে সবগুলো পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারও প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় নাচ, গান, আবৃত্তি, কৌতুক, গল্প বলা, অভিনয়সহ ১২টি বিষয়ে প্রতিভাবান শিশু-কিশোররা অংশ নেয়। আঞ্চলিক বাছাই, বিভাগীয় বাছাই, চূড়ান্ত বাছাই, সেরা দশ ও ফাইনাল রাউন্ড শেষে সেরাদের পেয়েছে নতুন কুঁড়ি। আগামীকাল ১৩ নভেম্বর তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে শাপলা হলে সেরাদের হাতে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত হবে। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা। 

প্রতিযোগিতার সেরাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মধ্যদিয়ে এ বছরের নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার সফল পরিসমাপ্তি হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিজয়ী প্রতিযোগী ও তাদের অভিভাবকদের আজ বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঢাকা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

নতুন কুঁড়ির সামগ্রিক আয়োজন বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক মাহবুবুল আলম বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের মেধা, মনন ও সাংস্কৃতিক বিকাশের অন্যতম মঞ্চ। এ মঞ্চ থেকেই উঠে এসেছে দেশের বহু খ্যাতনামা শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। এবারের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় নবীন প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ টেলিভিশন। নতুন কুঁড়ির পুরস্কার বিতরণ শেষ হয়ে গেলে প্রতিযোগীরা পারফরম্যান্স বন্ধ করে দেবে তা কিন্তু নয়। এই শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, তারা যেন তাদের শিল্পচর্চা অব্যাহত রাখে। কারণ নতুন কুঁড়ির মূল অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর এই শিল্পীদের নিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠান নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

তিনি জানান, এই সেরাদের নিয়ে বিটিভিতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন ও প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে। মাহবুবুল আলম বলেন, ‘‘আগামী নতুন কুঁড়ি পর্যন্ত তাদেরকে নিয়ে এ আয়োজন চলতেই থাকবে। এসব অনুষ্ঠানে তাদেরকে প্রমাণ করতে হবে—কারা কারা শ্রেষ্ঠ হয়েছিল। ছুটির দিনে ‘শিশু প্রহর’ নামে একটি বড় অনুষ্ঠান করারও পরিকল্পনা আছে, যেখানে শিশু-কিশোররা বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণ করবে। নতুন কুঁড়ি পুরস্কারের এ আয়োজন শেষ হওয়া মানেই তাদের প্রকৃত শিল্প সাধনার যাত্রা শুরু।’’