সামাজিকমাধ্যমে বেশ সক্রিয় ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। সম্প্রতি তিনি প্রেমে পড়ার ইঙ্গিতপূর্ণ একটি পোস্ট দিয়েছিলেন! এরপরই তাঁর সেই পোস্ট ঘিরে শুরু হয় সমালোচনা। এবার এই আবহের মধ্যেই একটি ভিডিওবার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী। যেখানে তিনি সাইবার অপরাধী ও বুলিংকারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
ভিডিওবার্তার শুরুতে প্রভা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা না বললেও নিজের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এখন আর চোখ বন্ধ করে থাকা সম্ভব নয়। ফলে ‘জ্বালাময়ী সত্য’ প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি।
অনলাইনে যারা অন্যদের ট্রল ও বুলি করেন, তাদের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আপনারা আপনাদের নিজের যোগ্যতা, নিজের স্থান, নিজের সৌন্দর্য, নিজের কোয়ালিফিকেশন—এই সবকিছুর প্রতি ইনসিকিউরিটি (নিরাপত্তাহীনতা) থাকার জন্যই তো মানুষকে মক (কটূক্তি) করেন। যারা মানুষের ব্যাপারে এত অ্যাগ্রেসিভলি জাজ (আক্রমণাত্মকভাবে মূল্যায়ন) করে, বুলি করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভার্বাল অ্যাবিউজ (কথার অত্যাচার) করে, তারা আসলে নিজেদেরকে নিয়ে স্যাটিসফাইড (সন্তুষ্ট) না এবং তারা দুঃখী। কিন্তু যারা ইনসিকিউর, তারাই ম্যাক্সিমাম টাইমে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে সেলিব্রিটি বা আর্টিস্টদের বুলি করে।’
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার যন্ত্রণা প্রকাশ করে প্রভা বলেন, ‘আমাকে বুলিং করা হচ্ছে প্রায় ১৬ বছর ধরে। আপনারা আমাকে বুলিং করে মজা পান, এতে আপনাদের পৈশাচিক আনন্দ হয়, তা আমি বুঝি। কিন্তু ঠিক যতটুকু আমাকে বুলিং করছেন, তার যদি ৫০ পার্সেন্ট আমাকে (ভিকটিমকে) করে বাকি ৫০ পার্সেন্ট ক্রিমিনালটাকে খুঁজে বের করে মক করতেন, ওকে নিয়ে লেখালেখি করতেন, ওর চেহারাটা বারবার মানুষের সামনে আনতেন যে ও একজন ক্রিমিনাল, তাহলে পরিস্থিতি এমন হতো না।’
সমাজব্যবস্থায় ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘যেমন আমরা এখন ধর্ষণকারীদের ছবি দিই বা একটা সময় অ্যাসিড নিক্ষেপকারীদের শাস্তি দিতাম, বিশাল পেনাল্টি দেওয়া হচ্ছে। ঠিক তেমনি যারা আরেকটা মানুষের ক্ষতি করে, তাদের সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি ডিসক্লোজ করে, তা গুরুতর অপরাধ। কিন্তু আপনারা সেই মানুষদের বুলিং না করে দিনকে দিন ভুক্তভোগীকে বুলিং করছেন।’
অনলাইন ট্রলকারীদের কড়া সমালোচনা করে প্রভা বলেন, ‘আপনাদের ইনসিকিউরিটি, বিউটি, কোয়ালিফিকেশন বা ইনকাম সোর্স নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যে পরিমাণ বুলিং আপনারা আমাকে করেছেন, তার অর্ধেকও যদি ক্রিমিনালকে করতেন, তাহলে পৃথিবীতে তন্ময়দের জন্ম হতো না। একটা ৩৫ বছর বয়সী ছেলেও কোনো মিডলাইফ ক্রাইসিসের মধ্যে নাই, ইয়াং এনাফ। ও চাইলে যে কাউকে ডেট করতে পারত। কিন্তু এই পারভারশন (বিকৃত মানসিকতা) ওর মধ্যে জন্ম নিয়েছে, কারণ আমরা সঠিক অপরাধীকে চিহ্নিত করে তার অপরাধ নিয়ে কথা বলতে পারছি না।’
সবশেষে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমাদের সমাজে আগামী প্রজন্মের জন্য চাইল্ডহুড ট্রমা দূর করা এবং সঠিক প্যারেন্টিং নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। কিন্তু যখন একজন অপরাধীকে আড়াল করে প্রতিনিয়ত ভিকটিমকে (ভুক্তভোগী) মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়, তখন সমাজ আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
ফলে ভুক্তভোগীকে দোষারোপ না করে প্রকৃত অপরাধীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানান প্রভা।