আর্জেন্টিনার ছোট্ট শহর সান ইসিদ্রো। বাড়ির নাম ‘মিরালরিও ভিলা’। সেখানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাটালেন দু’মাস। ব্যালকনির চৌকীতে বসে তিনি নদী দেখতেন। নদীর নাম ‘রিও ডেলা প্লাটা’। দক্ষিণ গোলার্ধের বসন্ত তখন ধীরে ধীরে গ্রীষ্মের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে! প্রকৃতিতে তখন নাটকীয় পরিবর্তন। রবীন্দ্রনাথের মনেও এক মায়ার খেলা! কোনো এক মায়ায় তিনি বুঁদ হয়ে রইলেন, মনের মধ্যে যেন কার ছবি, অচেনা সুর, কীসের যেন টান অনুভূত হতে থাকল তাঁর। সুখের মতো গোপন এক অসুখ বয়ে বেড়াতে শুরু করলেন তিনি! রবীন্দ্রনাথের দক্ষিণের সেই দিনগুলোর দীর্ঘশ্বাস বা আনন্দের হারানো কণিকা নিয়ে তৈরি নাট্যদল ম্যাড থেটারের ২য় প্রযোজনা ‘রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বিজয়া’।
১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা হয়েছিল ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর। এরইমধ্যে তাঁদের সাক্ষাতের শতবর্ষ পেরিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সাক্ষাতের শতবর্ষকে নাটকের মধ্যদিয়ে স্মরণে ব্যতিক্রম নজির গড়ছে ম্যাড থেটার। আজ সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হবে তাঁদের রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বিজয়া নাটকের একাদশ প্রদর্শনী। এটি রচনা, নির্দেশনা ও পরিকল্পনা করেছেন ম্যাড থেটারের প্রধান আসাদুল ইসলাম।
গল্পে দেখা যাবে, ১৯২৪ সাল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পেরু সরকার দাওয়াত দিয়েছিলেন স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে। সেখানে যাওয়ার জন্য মনস্থ করেন রবীন্দ্রনাথ। সেই উদ্দেশে তিনি শ্রীলংকার কলম্বো বন্দর থেকে জাহাজে চড়ে বসেন। কিন্তু দীর্ঘ দু’মাসের সমুদ্রযাত্রায় ক্লান্তিতে তাঁর শরীর ভেঙে পড়ে। দেহে বাসা বাঁধে ইনফ্লুয়েঞ্জা। শেষপর্যন্ত আর পেরু পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলেন না। কোনোভাবে আর্জেন্টিনা পর্যন্ত পৌঁছাতেই শরীরে রোগের প্রকোপ বেড়ে যায় এবং ডাক্তারের পরামর্শে বাধ্য হয়ে তাঁকে বিশ্রাম নিতে হয়।
প্লাজা হোটেলে অসুস্থতার দিনগুলোতে একদিন হঠাৎ তাঁর এক পাঠিকা এসে উপস্থিত হন। সেই পাঠিকার আমন্ত্রণ রক্ষার্থে তিনি হোটেল ছেড়ে শহরের বাইরে সান ইসিদ্রোতে এক ভাড়াবাড়িতে অবসর কাটাতে লাগলেন। সেখানে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর পাঠিকা ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সখ্য গড়ে ওঠে। আর্জেন্টিনার সেই সান ইসিদ্রো থেকে শান্তি নিকেতন, ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সান্নিধ্যে রবীন্দ্রনাথের থাকা-না থাকার দিনগুলোকে ফিরে দেখার অসামান্য এক উদ্ভাবন রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বিজয়া।
নাটকটির চরিত্র সংখ্যা দুটি। ‘রবীন্দ্রনাথ’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আসাদুল ইসলাম ও ‘ভিক্টোরিয়া’ চরিত্রে সোনিয়া হাসান। আলোক প্রক্ষেপণে রয়েছেন আশরাফুল ইসলাম সায়ান। আবহসংগীত নিয়ন্ত্রণে থাকছেন পৃথুলা।