মরণোত্তর দেহদানের সিদ্ধান্ত নিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। শুক্রবার (৯ আগস্ট) সদ্যপ্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন তিনি। এরপরই ঋতুপর্ণা মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের এই অভিনেত্রী বলেন, ‘যার পথ অনুসরণ করে তাঁর পিসি, পিসেমশাইও একই পথের পথিক হয়েছেন, আমিও সেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতোই মরণোত্তর দেহদান করতে চাই।’
ঋতুপর্ণার ভাষ্য, সৎকার বা দাহ না করে দেহ দান করলে সেটা কোনো মৃত্যু পথযাত্রীকে জীবনের পথে ফেরাতে পারবে। তাঁর মধ্য দিয়ে তিনিও অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারবেন।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে শ্রদ্ধা জানতে গিয়ে জনস্রোতে মিশে মিশে গিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা। অনেক মানুষের ভিড় ছিল এদিন, যা দেখে অভিনেত্রীর অনুভূতি হয় যে, মানুষের মনে আলাদা করে জায়গা না থাকলে এ ঘটনা ঘটে না।
তিনি বলেন, ‘‘আমি যখন পৌঁছেছি, তখন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে দলীয় অফিসের কার্যালয় থেকে দেহ নীলরতন সরকার হাসপাতালের পথে। আমার জন্য শববাহী শকট কয়েক মুহূর্তের জন্য থামানো হয়েছিল। জনস্রোতে ভাসতে ভাসতে তাঁর গাড়ির কাছে পৌঁছে গিয়েছিলাম। বুদ্ধিদীপ্ত, ভীষণ রসিক, কথায় কথায় যে মানুষটি মজা করতেন, তাঁর সঙ্গে আর কখনও দেখা হবে না— এটা ভেবে কষ্টে মনটা ছেয়ে গিয়েছিল। মনের পর্দায় ভেসে উঠেছিল পুরোনো দিনের স্মৃতি। যতবার সামনাসামনি হয়েছি, হাসিমুখে কথা বলেছেন। আমার বিয়ের সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। তাঁর সঙ্গে আশীর্বাদ করতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও এসেছিলেন। আমার ছেলে অঙ্গনের জন্মের সময় আমেরিকায় ছিলাম। তারপরও আমার মা হওয়ার খবর তাঁর কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। ছেলে হওয়ার খবর শুনে তিনি হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ‘একেবারে দেশের বাইরে গিয়ে ছেলের জন্ম!’ সেই মুহূর্তগুলো সত্যি কখনও ভুলতে পারব না।”
ঋতুপর্ণা আরও বলেন, ‘‘ভালোলাগার বিষয় হলো, আমার অভিনীত ‘পারমিতার একদিন’, ‘আলো’ সিনেমা দুটিও ভীষণ পছন্দের ছিল বুদ্ধদেবের। জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর তাই আলাদা করে আমাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন। যে মানুষটি এত সহজে আপন করে নিয়েছিলেন, তাঁর জীবনদর্শন আর চলার পথ অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি মরণোত্তর দেহদানের।’’