পশ্চিমবঙ্গে ১০০ মাইক্রো সিনেমা হল তৈরি করছেন প্রসেনজিৎ

অভিনয় জীবনে সুদীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পার করা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এখন শুধু অভিনেতাই নন—তিনি প্রযোজক, কনটেন্ট নির্মাতা। এবার হল মালিক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছেন। নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘এন আইডিয়াস’-এর মাধ্যমে সিনেমা ও টেলিভিশন কনটেন্ট প্রযোজনার পর এবার তিনি যুক্ত হচ্ছেন সিনেমা হল নির্মাণে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর উদ্যোগে গড়ে উঠছে ৪০ থেকে ৫০ আসনবিশিষ্ট প্রায় ১০০টি মাইক্রো সিনেমা হল।

এই উদ্যোগ প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে আনেন। গত বৃহস্পতিবার মহানায়ক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, ‘প্রসেনজিৎ একটা ভালো মডেল করেছে। অফিসাররা দেখে এসে আমাকে বলেছে। প্রায় ১০০টা জায়গায় ৪০-৫০ জনের বসার মতো সিনেমা ঘর বানাচ্ছে ও। ওই হলটা দেখে আমরা খুশি হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ও যেভাবে সিনেমা ঘর বানাচ্ছে, তাতে সিনেমাটা আরও বেশি ছড়িয়ে পড়বে। এতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষদের কাছে সিনেমা পৌঁছাবে, ওরা যে ছবিগুলো বানাচ্ছে সেগুলোর মার্কেট তৈরি হবে, পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হবে।’

উল্লেখ্য, সেই সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ নিজেও। তবে মুখ্যমন্ত্রী যে এভাবে তার নতুন উদ্যোগকে ঘোষণা করবেন, তা তিনি আগে থেকে জানতেন না। তাঁর মুখে বিস্ময়ের অভিব্যক্তিও ছিল স্পষ্ট।

পশ্চিমবঙ্গের বহু সিঙ্গেল স্ক্রিন হল বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে বা রূপান্তরিত হয়েছে শপিং মলে। এই সংকটে বড় বাজেটের মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণ অনেক সময় লাভজনক হয় না। কিছুদিন আগে এসভিএফ-এর মতো প্রযোজনা সংস্থা সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো আধুনিকায়নের চেষ্টা করেছিল, তবে প্রসেনজিৎ নিচ্ছেন এক ভিন্ন পথ।

তিনি সিনেমা হলগুলো গড়ছেন মাইক্রো ফরম্যাটে—অর্থাৎ ছোট আকারে, সীমিত দর্শকের জন্য, কিন্তু প্রেক্ষাগৃহের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যাতে কাছাকাছি কোথাও বসেই নতুন সিনেমা উপভোগ করতে পারেন—এই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ।