পাকিস্তানে কারাবন্দি ইমরান খানের জন্য দুশ্চিন্তায় মুনমুন

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির কারগারে প্রায় দু’বছর ধরে বন্দিজীবন পার করছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সম্প্রতি মাঝেমধ্যেই তাঁর মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। তবে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে খবরটি ভুয়া। এরপর পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সমর্থকরা তাঁদের নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। অবশেষে সেই ধারাবাহিকতায় কারাগারে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তাঁর বোন উজমা খান। তিনি জানান, সুস্থ আছেন ইমরান। তবে কারাগারে তাঁকে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইমরান খানকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন তাঁর বন্ধু মুনমুন সেন।  

আশি ও নব্বই দশকে বেশ আলোচনায় ছিল ইমরান-মুনমুনের সম্পর্ক। যদিও সেই গুঞ্জনে পাত্তা দেননি তাঁদের কেউই। দুজনেই জানান, এই সম্পর্ক কেবল বন্ধুত্বের। ইমরানের মুখেও একাধিকবার তাঁর বন্ধু মুনমুনের প্রশংসা শোনা গেছে। এবার কারাবন্দি বন্ধুর জন্য দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। 

ভারতীয় গণমাধ্যমে মুনমুন সেন বলেন, ‘দেখুন, আমি ইমরানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর আগে আমার কাছে ইমরানের পরিচয় একজন ক্রিকেট কিংবদন্তি, ভালো মানুষ এবং আমার বন্ধু।’ 

যোগ করে সুচিত্রা-কন্যা বলেন, ‘আমি আশা করি, ইমরান ভালো আছে। ওকে একটু ঠিকমতো খেতে দেওয়া হোক। ঠিকমতো খাওয়ার অর্থ কিন্তু রাজকীয় ভোজ নয়, ইমরান যে বেসিক ডায়েটটা মেনে চলতেন, সেরকম খাবারই ওকে খেতে দেওয়া হোক না। আর ব্যায়াম। শারীরিকভাবে ফিট থাকতে ইমরানের জন্য ব্যায়াম করার ব্যবস্থা করা হোক।’   

তিনি আরও বলেন, ‘ইমরান আমার বন্ধু। যদিও এই মুহূর্তে আমরা একে অপরের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নই। ক্রিকেটের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সে এত বড় নাম অর্জন করেছে। যতদিন আমি তাকে চিনি, সে সবসময় তার দেশের জন্য ভালো চেয়েছে। তাই এটা খুবই মর্মান্তিক যে আজ তাকে তার নিজের মাতৃভূমিতে এ রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। বহু বছর দেখা হয়নি ইমরানের সঙ্গে। ওর জন্য চিন্তা হচ্ছে, খুব খারাপ লাগছে, ওর পরিবারের জন্যও। কিন্তু ওই যে যখন আপনি রাজনীতিতে প্রবেশ করবেন, তাতে ঝুঁকি তো থাকেই, সেটাও তো অস্বীকার করা যায় না। তাই না?’

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বর্তমান শেহবাজ শরীফ সরকার তাঁকে কারাবন্দি করায় আন্তর্জাতিক মহলে দিনদিন উদ্বেগ বাড়ছে।