টলিউডে শোকের ছায়া। বুধবার (২৭ মে) দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাটের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মারা যান নির্মাতা অনীক দত্ত। তবে এ ঘটনা নিয়ে বিরাট রহস্য দানা বেঁধেছে। ভয়ানকভাবে তাঁকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় চারদিকে ছড়িয়ে ছিল চাপচাপ রক্ত। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত অনীক দত্তকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যুর খবর আসে।
একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানা যায়, অনীক দত্তের এই ফ্ল্যাটে থাকতেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্ত। সেই ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে পড়েই মারা গেছেন নির্মাতা।
কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে—তা নিয়ে এখনও জল্পনার শেষ নেই! ঘটনার তদন্তে নেমেছে গড়িয়াহাট থানা পুলিশ। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।
থানা সূত্রে খবর, যে ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে পড়ে প্রখ্যাত এই পরিচালকের মৃত্যু হয়েছে, সেখানেই মিলেছে একটি ‘নোট’। এতে নাকি লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’। এরপরই সন্দেহ ঘনীভূত হয়। প্রশ্ন উঠে—তাহলে কি আত্মহননের পথ পরিচালক নিজেই বেছে নিয়েছেন?
এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণে তা হচ্ছে না। গণমাধ্যমে পরিবারিক সূত্র জানিয়েছে, অনীক দত্তের একমাত্র মেয়ে ঐশী থাকেন মুম্বাইয়ে। তিনি ফিরছেন, তাঁর আসার অপেক্ষায় রয়েছেন নির্মাতার প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্ত এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা। মেয়ে কলকাতায় ফিরলে শেষ যাত্রার প্রস্তুতি শুরু হবে। সব ঠিক থাকলে আগামীকাল সম্পন্ন হতে পারে নির্মাতার শেষকৃত্য।
তবে আজ বেলা সাড়ে ৩টার দিকে অনীক দত্তের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। যদিও ময়নাতদন্তের একটি প্রাথমিক রিপোর্ট গতকালই পাওয়া গেছে। তবে এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ্যে আসেনি।
প্রসঙ্গত, বিজ্ঞাপন জগতে দীর্ঘদিন কাজের সুবাদে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন অনীক দত্ত। ২০১২ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম বাংলা সিনেমা ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’। আর এই প্রথম ছবিতেই তিনি বাজিমাত করেন। কমেডির মোড়কে সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি নিয়ে নিজের ধারণা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন চিত্রনাট্যে। তাঁর সিনেমায় সত্যজিৎ রায়ের গভীর প্রভাব রয়েছে। সত্যজিতের সিনেমাই ছিল তাঁর অনুপ্রেরণা। আর সেই অনুপ্রেরণা থেকেই ২০২২ সালে তিনি বানিয়েছিলেন ‘অপরাজিত’। এ ছাড়াও তাঁর পরিচালিত সিনেমার মধ্যে ‘বরুণবাবুর বন্ধু’, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’ উল্লেখযোগ্য। গত বছর মুক্তি পেয়েছে তাঁর শেষ ছবি ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’।