মাত্র ৫৩ বছর বয়সে এই মহানায়কের মৃত্যু হয়। তার আচমকা মৃত্যুর সঙ্গেও আরেক মহাতারকা সুচিত্রা সেনের একটা বড় আক্ষেপ জড়িয়েছিল। আসলে মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগেও উত্তম কুমার সুচিত্রার খোঁজ করেছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি অন্তত একবার নায়িকার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন বলেই ভারতীয় গণমাধ্যমকে একাধিকবার নিশ্চিত করেছে মহানায়কের পরিবার।
বাংলা চলচ্চিত্রে কালজয়ী দুই চরিত্র উত্তম-সুচিত্রা। এই জুটির সব সিনেমাই আজও সমানভাবে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়। অনস্ক্রিন ও অফস্ক্রিন দুই জায়গাতেই তারা ছিলেন সুপারহিট।
খুব কম বয়সে অকালেই প্রয়াত হন বাংলার মহানায়ক। তিনি যে এইভাবে আচমকা চলে যাবেন সেটা কেউই আন্দাজ করতে পারেননি সুচিত্রাসহ অনেকেই।
উত্তম কুমারের মৃত্যু কার্যত ভেঙে দিয়েছিল সুচিত্রাকেও। আসলে বাস্তবে তারা একে অপরের খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। উত্তমের মৃত্যুর পর সুচিত্রাও অভিনয় জগতকে বিদায় জানান। তিনিও খুব অল্পবয়সে অভিনয় ছেড়ে অজ্ঞাতবাসে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শোনা যায়, একদিকে বয়স বেড়ে যাওয়া, অন্যদিকে প্রিয় সহশিল্পী উত্তম কুমারের সঙ্গে অভিনয় না করতে পারার যন্ত্রণাই তাকে আরো দূরে সরিয়ে দেয়।
মৃত্যুর সপ্তাহে উত্তম সুচিত্রার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সুচিত্রা তখন অভিনয় নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে সেই সময়টুকু তিনি বের করতে পারেননি। যার ফলে মৃত্যুর আগে শেষ দেখাও হয়নি উত্তম কুমারের সুচিত্রার সঙ্গে। তাই নায়িকাও জানতে পারেননি আসলে কী বলতে চেয়েছিলেন নায়ক।
উত্তম মারা যান ২৪ জুলাই। এর আগের দিন তিনি জীবনের শেষ শুটিং করেন। সকালে বেরোনোর সময় একটা খারাপ ঘটনা ঘটে উত্তমের সঙ্গে। তার শখের জিনিস ছিল—টেপরেকর্ডার। মন খারাপ হলে, ওটা চালিয়ে লো-ভলিউমে গান শুনতেন। ওটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
‘ওগো বধূ সুন্দরী’ সিনেমার জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। তার শেষ সংলাপ ছিল, ‘আমিও দেখে নেব, আমার নাম গগন সেন। যাওয়া-আসার দরজা খোলাই রয়েছে।’ শুটিং শেষ করে গিয়েছিলেন প্রযোজক দেবেশ ঘোষের বাড়ি। সেখানে মধ্যরাত পর্যন্ত কাটিয়ে ফিরে আসেন ময়রা স্ট্রিটের উত্তম তীর্থে। বাড়িতে এসেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। নেওয়া হয় হাসপাতালে। পরদিন খবর ছড়িয়ে পড়ে আরে নেই প্রিয় নায়ক উত্তম কুমার।