কুয়াকাটা সৈকত থেকে আড়াই ঘণ্টায় ৩২৩ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ

নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। এখানে রয়েছে বিপন্ন প্রজাতির নানা প্রাণী। এ ছাড়া সৈকতজুড়ে রয়েছে বিচিত্র প্রজাতির অমেরুদণ্ডী প্রাণীর বসবাস। এই জীববৈচিত্র্যের একটা বড় অংশ এরই মধ্যে হারিয়ে গেছে কুয়াকাটা থেকে। লোকসংখ্যা বৃদ্ধি, অসচেতনভাবে পর্যটকদের আনাগোনা আর দূষণ এর অন্যতম কারণ। সব থেকে ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করছে প্লাস্টিক দূষণ।
 
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে দূষণ সৃষ্টিকারী প্লাস্টিক অপসারণ করল শিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুয়াকাটা সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট শিক্ষার্থীরা প্লাস্টিক পরিষ্কার অভিযানে অংশ নেয়। আড়াই ঘণ্টায় ছয় কিলোমিটার সমুদ্র সৈকত থেকে ৩২৩ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সরানো হয়। 

প্লাস্টিক বর্জ্যের মধ্যে ফুড প্লাস্টিক (রাপ্যার), পলিথিন, ওয়ান টাইম প্লাস্টিক প্রোডাক্ট, বোতল, সিগারেট প্যাকেট, পরিত্যাক্ত মাছের জাল, প্রসাধনী প্রোডাক্ট, ই-বর্জ্য অন্যতম। সব থেকে বেশি পাওয়া প্লাস্টিকের মধ্যে ছিল চানাচুর, চিপস, বিস্কুটের প্যাকেট ও কোমল পানীয়র বোতল।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সহোযোগিতায় ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিকাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)। এ ছাড়া ইয়ুথনেট বরিশাল ও এ্যানিমেল লাভারস অব পটুয়াখালী নামক সেচ্ছাসেবী সংগঠন এতে যুক্ত হয়। এই আয়োজনে সমুদ্র সৈকেতে আসা পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়।

পরিবেশ মন্ত্রণালয় এই আয়োজন করে। ছবি: সংগৃহীত আয়োজনে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণবিদ আশিকুর রহমান সমী। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন পটুয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন মো. জুবায়ের, আব্দুল হালিম মির্জা, দিপ্ত বিশ্বাস, মো. রাকিব হাসান, মো. নূর উদ্দীন, মো. রাজিব মিয়া।